যাকির নায়েককে নিয়ে নাস্তিকদের মিথ্যাচারের জবাব (৫ মিনিটে ২৫ মিথ্যা?)

ভিডিও-০১
নাস্তিকদের আহাজারি: যাকির নায়েককে নিয়ে মিথ্যাচার
সচলায়তন ব্লগটি  নাস্তিকদের অভয়ারন্য। সাথে রয়েছে কিছু 'প্রতিভাবান' আওয়ামীলীগার। শিক্ষানবিস নিকধারী জনৈক নাস্তিক একটি ইউটিউব ভিডিওর বাংলা অনুবাদ করে এখানে প্রকাশ করে। যেখানে দেখানো হয়েছে, ডা: যাকির নায়েক নাকি ভিডিও তে মিথ্যা কথা বলছেন। মূলত নাস্তিককুলের আতঙ্কের কারন ডা: জাকির নায়েকের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইসলামের দাওয়াত পদ্ধতি এবং অসাধারণ স্মরণশক্তি দিয়ে অনৈতিক অগ্রহণযোগ্য সকল মতবাদের মূলোচ্ছেদ পদ্ধতি। যা বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে দারুনভাবে আকৃষ্ট করেছে।

আল্লাহ কি এমনকিছু বানাতে পারবেন, যেটা আল্লাহ তুলতে পারবেন না?

ছুটির দিনে সারাদিন রুমে বসে থাকা ছাড়া আমার আর কোন কাজ থাকেনা।সপ্তাহের এই দিনটি অন্য সবার কাছে ঈদের মতো মনে হলেও, আমার কাছে এই দিনটি খুবই বিরক্তিকর।ক্লাশ,ক্যাম্পাস,আড্ডা এসব স্তিমিত হয়ে যায়।
এই দিনটি আমি রুমে শুয়ে-বসে-ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেও, সাজিদ এই দিনের পুরোটা সময় লাইব্রেরিতে কাটিয়ে দেয়। লাইব্রেরিতে ঘুরে ঘুরে নানান বিষয়ের উপর বই নিয়ে আসে।
আজ সকালেও সে বেরিয়েছে লাইব্রেরির উদ্দেশ্যে।ফিরবে জুমা'র আগে।হাতে থাকবে একগাদা মোটা মোটা বই।
বাসায় আমি একা। ভাবলাম একটু ঘুমোবো। কাল অনেক রাত পর্যন্ত বসে বসে এ্যাসাইনমেণ্ট রেডি করেছি।চোখদুটো জবা ফুলের মতো টকটকে লাল হয়ে আছে।আমি হাঁই তুলতে তুলতে যেই ঘুমোতে যাবো, অমনি দরজার দিক থেকে কেউ একজনের কাঁশির শব্দ কানে এলো।

মৌমাছি—বিস্ময়কর এক ভেক্টর গণিতবিদ !

http://denrig.com/bee001.jpg

তৈলাক্ত বাঁশের বানর
“আপুর বইয়ে একটা অঙ্ক দেখলাম, বাবা—তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠছে এক বানর। বানরটি এক মিনিটে ৩ মিটার উঠে, আবার পরের মিনিটেই পিছলে ১ মিটার নেমে যায়। বানররা কি এরকম করে, বাবা? আর এ অঙ্ক করেই বা কী কাজ হবে?” এক অপরাহ্নে, পারিবারিক চায়ের আসরে, আমার ছোট মেয়ে ফারিনের প্রশ্ন।

প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসেন মেয়েদের মা। মেয়ের চুল নেড়ে দিতে দিতে আমি বলি, “তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠার মতো বাঁদরামী বানররা হয়তো কখনো করবে না। অঙ্কটি যারা তৈরি করেছেন, তারা বাস্তব জীবনের সাথে মিল রেখে একে তৈরি করতে পারতেন। তবে কোনো গণিতই অর্থহীন নয়, কারণ গণিত চিন্তার জগতকে প্রসারিত করে। যেকোনো বিষয়কে সুশৃঙ্খল সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে গণিত, ফলে তা বুঝতে সহজ হয়। আর গণিতের সবচেয়ে বড় উপকারটি হলো, এটি তোমার মনে মায়া মমতা সৃষ্টি করবে।”

নাস্তিক মুর্খদের মিথ্যাচারঃ খাদীজা, আমিনা, ওমর কি পৌত্তলিক নাম?

“আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ, খাদিজা, আলী, আবু বকর, ওমর, এগুলো মোটেও ইসলামী নাম নয়, এগুলো সবই আরবি নাম। আইয়্যামে জাহিলিয়ার সময়কার পৌত্তলিক নাম। কারণ ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন মুহাম্মদ, প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ছিলেন খাদিজা, এরপরে আলী, আবু বকর, ওমর এরা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের আগেই তাদের এরকম নাম ছিল। ইসলাম পৃথিবীর মুখ দেখার আগেই তাদের নাম সেগুলো রাখা হয়েছিল। তাদের পৌত্তলিক বাপদাদারা এরকম নামই রেখেছিল। সেটা ছিল আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগ, পৌত্তলিক আরবের যুগ। তার মানে এগুলো আসলে ইসলামী নাম বলা হলেও পৌত্তলিক নামই।” -নাস্তিক

চে গুয়েভারাঃ একজন নাস্তিক, ধর্ষক এবং সন্ত্রাসী

ধর্ষক এবং সন্ত্রাসী চে গুয়েভারা পৃথিবীর ইতিহাসে বিখ্যাত নাস্তিকদের অন্যতম ||

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিরা কিছু সত্য ইতিহাসকে অচল করে দিয়েছে । যেগুলো অচল হবার মত ছিলনা । তার মধ্য একটি হলো নাস্তিক চে গুয়েভারাকে হিরো বানানো । বাংলাদেশর মুসলমানরাও অজান্তে যাকে বীর হিসাবে নমঃ নমঃ করে। মুসলমানদের ব্যাগে, টুপিতে, কাপড়ে যার ছবিলীলা ।। কে ইনি জানেন ? একজন কুখ্যাত কসাই । son of monkey, বাংলাদেশী ফিরাউন, নাস্তিক মগাচীফ মহিউদ্দিন, পারভেজ আলমদের আদি পিতা ।

আস্তিক-নাস্তিক জমজ শিশু

প্রথম শিশু : তাহলে তুমি, তুমি ’জন্মের পরের জীবনে’ বিশ্বাস কর?

দ্বিতীয় শিশু: অবশ্যই। এটা সত্যি যে জন্মের পরের জীবনের অস্তিত্ব আছে। আমাদের এখানে আসার উদ্দেশ্য যাতে আমরা শক্তি অর্জন করতে পারি এবং পরবর্তী জীবনে যা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে তার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি।

প্রথম শিশু : আরে ধুর! এটা হলো একটা অবাস্তব কল্পনা। জন্মের পর বলতে কিছুই নেই। গর্ভের বাহিরের জীবন কেমনি বা হবে?

দ্বিতীয় শিশু: আসলে, এ সংক্রান্ত অনেক কথাই প্রচলিত আছে। আমি শুনেছি যে, সেখানে প্রচন্ড তীব্র আলো আছে, গভীর আবেগ ও তীব্র আনন্দের অনুভূতি আছে, আছে জীবন যাপনের জন্য হাজারো বস্তু। যেমন ধর, আমি শুনেছি যে সেখানে নাকি আমরা আমাদের মুখ দিয়ে খাবার গ্রহণ করবো।

সকল প্রশংসা কেনো আল্লাহর? নিন্দার দায়ভার কার?

ক্লাশে নতুন একজন স্যার এসেছেন।নাম- মফিজুর রহমান।
হ্যাংলা-পাতলা গড়ন।বাতাস আসলেই যেনো ঢলে পড়বে মতন অবস্থা শরীরের।ভদ্রলোকের চেহারার চেয়ে চোখ দুটি অস্বাভাবিক রকম বড়।দেখলেই মনে হয় যেন বড় বড় সাইজের দুটি জলপাই, কেউ খোদাই করে বসিয়ে দিয়েছে।
ভদ্রলোক খুবই ভালো মানুষ।উনার সমস্যা একটিই- ক্লাসে উনি যতোটা না বায়োলজি পড়ান, তারচেয়ে বেশি দর্শন চর্চা করেন।ধর্ম কোথা থেকে আসলো, ঠিক কবে থেকে মানুষ ধার্মিক হওয়া শুরু করলো, 'ধর্ম আদতে কি' আর, 'কি নয়' তার গল্প করেন।

লাল সেলাম কমরেড (১৮+) | নাস্তিক-কম্যুনিষ্ট-বাম শাসনব্যবস্থার চিত্র

চিন্তা ভবনায় দুই মেরুর দুই জন বন্ধু আছে আমার, এদের কথা আমি প্রায়ই আপনাদের কাছে বলি। এবার ও, এদের ভিন্ন আংগিকের কিছু নতুন আলোচনা আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম। জানিনা আপনাদের কেমন লাগবে? লেখাটিতে কিছু আঁতেঘা দেওয়ার মতন কথা বার্তা লেখা হয়েছে। জানি কারো কারো খারপ লাগবে। সত্যি বলতে কি, মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে মানুষ যখন খোচায়, বা ধর্মকে বাতিল মাল বলে চোখ গোড়ানী দেয়, তখন আমাদের ও খারাপ লাগে(মানে ম্যাংগো পিপল দের)। খোচানোর মধ্যে মানুষ কি সুখ পায় এটা জানিনা। তবে ব্লগে এসে এখন দেখি নাখুচিয়ে উপায় নেই। যাদের গায়ে খোচা লাগার সম্ভাবনা আছে তাদের কে বলছি, ইট মারলে পাটকেল খেতে হয় ভাই। অনেকে হয়তো আমাকেই জিগ্যেস করবেন আপনে খোচা মারলেন কেন? তাদের জন্য বলবো," কি আর করবো ভাই সংঙ্গ দোষে লোহা ভাসে।"


রং পেন্সিল : মহেশের মহাযাত্রা (হুমায়ূন আহমেদ)

পরশুরামের লেখা একটি ভৌতিক গল্পের নাম 'মহেশের মহাযাত্রা'। পরশুরাম অতিপণ্ডিত এবং অতিরসিক একজন মানুষ। তাঁর রসবোধের নমুনা দিই-
রেস্টুরেন্টে এক ছেলে তার বন্ধুদের নিয়ে চা খেতে গিয়েছে। ছেলেটির বাবাও হঠাৎ করে সেখানে গেলেন। ছেলেকে রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতে দেখে রেগে অগি্নশর্মা হয়ে প্রচুর গালাগাল করে বের হয়ে এলেন। ছেলের বন্ধুরা বলল, তোর বাবা তোকে এত গালমন্দ করল, আর তুই কিছুই বললি না?
ছেলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, বাবার কথার কী করে জবাব দিই! একে তো তিনি বাবা, তারপর আবার বয়সেও বড়।
বাবা ছেলের চেয়ে বয়সে বড়-এই হলো পরশুরামের রসবোধ। তিনি হাসি-তামাশা, ব্যঙ্গ-রসিকতার গল্পের ভিড়ে
'মহেশের মহাযাত্রা' নামের অদ্ভুত এক ভূতের গল্পও লিখে ফেললেন। মহেশ নামের এক পাঁড় নাস্তিকের গল্প, যে মহেশ অঙ্ক দিয়ে প্রমাণ করেছে ঈশ্বর সমান শূন্য।
একদল নাস্তিকের ঈশ্বরকে শূন্য প্রমাণ করার চেষ্টা যেমন আছে, আবার কঠিন আস্তিকদের চেষ্টা আছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করার। ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নালে অঙ্কের একজন শিক্ষক ইনফিনিটি সিরিজ দিয়ে প্রমাণ করলেন ঈশ্বর আছেন। ভুবনখ্যাত অঙ্কবিদ ইউলার চার্চের সঙ্গে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন। তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে বিদঘুটে এক অঙ্ক লিখে বললেন, এই সমীকরণ প্রমাণ করে ঈশ্বর নেই। আপনারা কেউ কি এই সমীকরণ ভুল প্রমাণ করতে পারবেন? চার্চের পাদ্রিরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলেন। কারণ, অঙ্ক-বিষয়ে তাদের জ্ঞান নেই।
সম্প্রতি পত্রিকায় দেখলাম কঠিন তাত্তি্বক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং বলেছেন, ঈশ্বর এবং আত্মা বলে কিছু নেই। স্বর্গ-নরক নেই। সবই মানুষের কল্পনা। মানব-মস্তিষ্ক হলো একটা কম্পিউটার। কারেন্ট চলে গেলে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যু হলো মানব-মস্তিষ্ক নামক কম্পিউটারের কারেন্ট চলে যাওয়া।
স্টিফেন হকিং কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত। মস্তিষ্ক ছাড়া তাঁর শরীরে সব কলকবজাই অচল। তিনি নিজেই মনে করছেন তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় মানুষ সাধারণত আস্তিকতার দিকে ঝুঁকে। তিনি পুরোপুরি অ্যাবাউট টার্ন করে বললেন, ঈশ্বর নেই। কোনো পবিত্র নির্দেশ ছাড়াই (Devine intervention) বিশ্বণ্ড তৈরি হতে পারে। শুরুতে এ ধরনের সরাসরি কথা তিনি বলতেন না। তাঁর কথাবার্তা ছিল সন্দেহবাদীদের মতো-ঈশ্বর থাকতেও পারেন, আবার না-ও থাকতে পারেন।
স্টিফেন হকিংয়ের এক উক্তিতে ঈশ্বর ধ্বংস হয়ে গেছে মনে করার কারণ নেই। আবার অনেক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিদের ঈশ্বরের অস্তিত্বের বিষয়ে জোরালো বক্তব্যে ঈশ্বরের প্রতিষ্ঠা হয় না। ঈশ্বর অধরাই থেকে গেছেন।
আমি সামান্য বিপদে পড়েছি, স্টিফেন হকিংয়ের মন্তব্যে আমার কী বলার আছে, তা অনেকেই জানতে চাচ্ছেন। এসব জটিল বিষয়ে আমি নিতান্তই অভাজন। তার পরও বিচিত্র কারণে কিছু বলার লোভ সামলাতে পারছি না।
বিজ্ঞানীদের একটি শর্ত হকিং সাহেব পালন করেননি। তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলেন না। যখন পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেন না তখন বলেন, তিনি অনুমান করছেন বা তাঁর ধারণা। হকিং সরাসরি বলে বসলেন, ঈশ্বর নেই। তিনি নিজেও কিন্তু পদার্থবিদ্যায় তাঁর থিওরি একাধিকবার প্রত্যাহার করেছেন।
হকিং সাহেবের ধারণা-অমরত্ব বলে কিছু নেই। তিনি সম্ভবত ভুলে গেছেন উঘঅ অণু অমর। আমাদের এবং এ জগতের সৃষ্ট সব প্রাণী ও বৃক্ষের প্রতি নির্দেশাবলি দেওয়া আছে উঘঅ-তে। আমরা কখন যৌবনে যাব, কখন বুড়ো হব-সব নিয়ন্ত্রণ করছে উঘঅ অণু। এই অণুই সদ্য প্রসব হওয়া গো-শাবককে জানিয়ে দিচ্ছে, একটি বিশেষ জায়গায় তোমার জন্য তরল খাবার রাখা আছে। মুখ দিয়ে সেখানে ধাক্কা দেওয়ামাত্র তোমার খাবার বের হয়ে আসবে। আমরা বাস্তবে কী দেখি? বাছুর মাতৃগর্ভ থেকে বের হয়ে ছুটে যাচ্ছে তার মায়ের ওলানের দিকে। তাকে কিছু বলে দিতে হচ্ছে না। তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে রহস্যময় উঘঅ.
এই রহস্যময় উঘঅ কি বলে দিচ্ছে না? 'হে মানব জাতি, তোমরা ঈশ্বরের অনুসন্ধান করো।' এ কারণেই কি মানুষ নিজের জন্য ঘর বানানোর আগে প্রার্থনার ঘর তৈরি করে?
হকিং বলছেন মানব-মস্তিষ্ক কম্পিউটারের মতো। সুইচ অফ করলেই কম্পিউটার বন্ধ। মৃত্যু মানব কম্পিউটারের সুইচ অফ।
সুইচ অফ করলেও কিন্তু কম্পিউটারের মেমোরি থেকে যায়। আবার পৃথিবীর সব কম্পিউটারের মেমোরি কিন্তু ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংরক্ষণ সম্ভব।
মহা মহা শক্তিধর (আল্লাহ্, ঈশ্বর, গড) কারো পক্ষে একইভাবে প্রতিটি মানুষের মেমোরি সংরক্ষণও সম্ভব। তখনো কিন্তু আমরা অমর। সংরক্ষিত মেমোরি দিয়ে প্রাণ সৃষ্টিও সেই মহাশক্তিধরের কাছে কোনো বিষয়ই না।
মানুষ নিজেও মহা মহা শক্তিধর। সেই মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই সৃষ্টি হয়ে গেল। বিশ্বণ্ডে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। তাকে কঠিন শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা হয়েছে। তাকে পদার্থবিদ্যার প্রতিটি সূত্র মেনে চলতে হচ্ছে। এই সূত্রগুলো আপনা-আপনি হয়ে গেছে? এর পেছনে কি কোনো পবিত্র আদেশ (Devine order) নেই?
একদল বলছে, প্রাণের সৃষ্টি 'ঈযধড়ং' থেকে। অণুতে অণুতে ধাক্কাধাক্কিতে জটিল যৌগ তৈরি হলো। একসময় জটিল যৌগ আরো জটিল হলো। সে নিজের মতো আরো অণু তৈরি করল। সৃষ্টি হলো প্রাণ। অণুতে অণুতে ধাক্কাধাক্কিতে একদিকে তৈরি হলো ধীমান মানুষ, অন্যদিকে তৈরি হলো গোলাপ, যার সৌন্দর্য ধীমান মানুষ বুঝতে পারছে। ব্যাপারটা খুব বেশি কাকতালীয় নয় কি?
আমি ওল্ড ফুলস ক্লাবের আড্ডায় প্রায়ই ঈশ্বর-বিষয়ক একটি গল্প বলি। পাঠকদের গল্পটি জানাচ্ছি। ধরা যাক এক কঠিন নাস্তিক মঙ্গল গ্রহে গিয়েছেন। সেখানকার প্রাণহীন প্রস্তরসংকুল ভূমি দেখে তিনি বলতে পারেন-একে কেউ সৃষ্টি করেনি। অনাদিকাল থেকে এটা ছিল। তার এই বক্তব্যে কেউ তেমন বাধা দেবে না। কিন্তু তিনি যদি মঙ্গল গ্রহে হাঁটতে হাঁটতে একটা ডিজিটাল নাইকন ক্যামেরা পেয়ে যান, তাহলে তাঁকে বলতেই হবে এই ক্যামেরা আপনা-আপনি হয়নি। এর একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। মনে করা যাক ক্যামেরা হাতে তিনি আরো কিছুদূর গেলেন, এমন সময় গর্ত থেকে একটা খরগোশ বের হয়ে এল। যে খরগোশের চোখ নাইকন ক্যামেরার চেয়েও হাজার গুণ জটিল। তখন কি তিনি স্বীকার করবেন যে এই খরগোশের একজন সৃষ্টিকর্তা আছে?
মনে হয় স্বীকার করবেন না। কারণ, নাস্তিক আস্তিক দুই দলই জেগে ঘুমিয়ে থাকার ভান করে বলে তাদের ঘুম ভাঙানো যায় না। বিপদে পড়ে সন্দেহবাদীরা। যতই দিন যায় ততই তাদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। বাড়তেই থাকে।

পাদটিকা
রাতের অন্ধকারে এক অতিধার্মিক বাড়িঘর ছেড়ে পথে নেমেছেন। তাঁকে একজন জিজ্ঞেস করল, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, ঈশ্বরের সন্ধানে।
সেই লোক অবাক হয়ে বলল, সে কি! ঈশ্বর কি হারিয়ে গেছেন যে তার সন্ধানে বের হতে হচ্ছে?




হুমায়ুন আহমেদকে নাস্তিক প্রচারের বিরুদ্ধে এই লিঙ্কটি দিয়ে মানুষকে সঠিক মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো। এজন্য আরো কিছু সংযোজন করা হলো। যা বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক..



‘মৃত্যু নিয়ে প্রায়ই ভাবি’—হুমায়ূন আহমেদ

আলীম আজিজ ও ইকবাল হোসাইন চৌধুরী | তারিখ: ১৭-০৯-২০১১ (Link)
ধানমন্ডির দখিন হাওয়ায় হুমায়ূন আহমেদ: যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার দুই দিন আগে

হযরত আয়েশা (রা:) এর বয়স

রাসুল (সাঃ) এর সম্বন্ধে বলা হয় তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ) কে আয়েশার ৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। অথচ আমি অনুসন্ধান করে দেখতে পেলাম রাসূল (সাঃ) এর সাথে বিয়ের সময় হযরত আয়শা (রাঃ) র বয়স মাত্র ৬ বছর ছিল এটা মস্তবড় এক ঐতিহাসিক ভ্রান্তি।

সহীহ বুখারী, মুসলিম সহ অনেক হাদীস গ্রন্থে হযরত আয়েশা (রাঃ) র বয়স নিয়ে যে রেফারেন্স এসেছে তা হাইসাম (বা হিসাম) বিন উরওয়াহ কর্তক বর্নিত একটি হাদিসেরই উৎস এবং এটা সম্বন্ধে সংশয় প্রকাশ করবার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তার মধ্যে প্রথম কারণ হলো হাদীসের কোন বিষয়বা রাসুল (সাঃ) এর জীনযাপন পদ্ধতি কোনভাবেই আল কোরআনের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারেনা। কাজেই বিবাহযোগ্য বয়সের বিষয়ে আল কোরআনের যে নির্দেশ, এই ঘটনা তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাহলে? উত্তর একটাই, এই হাদীসটা সঠিক নয়, সঠিক হতেই পারেনা।

যা হোক, এবারে আসি ঐতিহাসিক সত্যগুলো নিয়েঃ

রাসুল (সাঃ) এর সাথে আয়েশা (রাঃ) র বিয়ে হয় ৩য় হিজরী সনের সাওয়াল মাসে যা ইংরেজী ৬২৩-৬২৪ সাল।

যদিও বলা হয় হযরত আয়েশা (রাঃ)র জন্ম ৬১৪ খৃষ্টাব্দে কিন্তু সহীহ বুখারীতে এসেছে আল কোরআনের ৫৪ তম অধ্যায় নাজিল কালে আয়েশা (রাঃ) একজন কিশোরী (Jariyah) বয়স্কা ছিলেন। উল্লেখ্য ৫৪তম উক্ত অধ্যায় নাযিল হয় ৬১২ খৃষ্টাব্দের দিকে। সে হিসাবে হযরত আয়েশার বয়স তখন ১০ বছর হলেও ৬২৩-৬২৪ খৃষ্টাব্দ সালে তাঁর বয়স কোনভাবেই ২০ বছরের নিচে নয়।

(Sahih Bukhari, kitabu'l-tafsir, Arabic, Bab Qaulihi Bal al-sa`atu Maw`iduhum wa'l-sa`atu adha' wa amarr)

অধিকাংশ বর্ণনাকারির মতে হযরত আয়েশা (রাঃ) বদরের যুদ্ধ (৬২৪ খৃষ্টাব্দে) ও ওহুদের যুদ্ধে (৬২৫ খৃষ্টাব্দে) অংশগ্রহন করেছেন। উল্লেখ্য যে রাসুল (সাঃ) এর বাহিনীতে ১৫ বছর এর কম বয়স্ক কেউ গ্রহনযোগ্য ছিলনা এবং তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং সেসময় যে হযরত আয়েশার বয়স ৬ বা ৯ ছিলনা তা বলাই বাহুল্য।

A narrative regarding Ayesha's participation in the battle of `Uhud is given in Bukhari, (Kitabu'l-jihad wa'l-siyar, Arabic, Bab Ghazwi'l-nisa' wa qitalihinna ma`a'lrijal; that all boys under 15 were sent back is given in Bukhari, Kitabu'l-maghazi, Bab ghazwati'l-khandaq wa hiya'l-ahza'b, Arabic).

অধিকাংশ ইতিহাসবিদ মতে হযরত আয়েশার বোন আসমা ছিলেন তাঁর চেয়ে দশ বছরের বড়। ইতিহাস থেকে জানা যায় আসমা ৭৩ হিজরী সনে যখন মৃত্যুবরণ করেন তাঁর বয়স ছিল ১০০ বছর। সে হিসাবে ১লা হিজরীতে তাঁর বয়স হয় ২৭ বছর। তাহলে সে হিসেবে হযরত আয়েশার বয়স যে তখন ১৭ র কম ছিলনা তা বোঝা যায়। তাহলে ৬২৩-৬২৪ খৃষ্টাব্দ তাঁর বয়স ১৮/১৯ বছর।
(For Asma being 10 years older than Ayesha, see A`la'ma'l-nubala', Al-Zahabi, Vol 2, Pg 289, Arabic, Mu'assasatu'l-risalah, Beirut, 1992. Ibn Kathir confirms this fact, [Asma] was elder to her sister [Ayesha] by ten years" (Al-Bidayah wa'l-nihayah, Ibn Kathir, Vol 8, Pg 371, Arabic, Dar al-fikr al-`arabi, Al-jizah, 1933). For Asma being 100 years old, see Al-Bidayah wa'l-nihayah, Ibn Kathir, Vol 8, Pg 372, Arabic, Dar al-fikr al-`arabi, Al-jizah, 1933). Ibn Hajar al-Asqalani also has the same information: "She [Asma (ra)] lived a hundred years and died in 73 or 74 AH." Taqribu'l-tehzib, Ibn Hajar Al-Asqalani, Pg 654, Arabic, Bab fi'l-nisa', al-harfu'l-alif, Lucknow).

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল তাবারী র বই থেকে পাওয়া যায় হযরত আবু বকর (রাঃ) র চার সন্তান ছিলেন যাঁরা সকলেই ইসলামপূর্ব যুগে জন্মগ্রহন করেন। (ইসলামপূর্ব যুগ ৬১০ খৃষ্টাব্দ শেষ হয়)। তাহলে নিশ্চয়ই হযরত আয়েশা (রাঃ) র জন্ম ৬১০ খৃষ্টাব্দ এর পূর্বে। সে হিসাবেও তিনি বিবাহের সময় ৬/৯ বছর বয়স্কা ছিলেন না।

Tarikhu'l-umam wa'l-mamlu'k, Al-Tabari, Vol 4, Pg 50, Arabic, Dara'l-fikr, Beirut, 1979).

আরেক প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে হাইসাম থেকে জানা যায় হযরত আয়েশা (রাঃ) হযরত উমর ইবন আল খাত্তাব (রাঃ) এর বেশ আগে ইসলাম গ্রহন করেন। (উমর ইবন আল খাত্তাব (রাঃ) ৬১৬ খৃষ্টাব্দে ইসলাম গ্রহন করেন)। আবার হযরত আবু বকর (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করেন ৬১০ খৃষ্টাব্দে। সুতরাং হযরত আয়েশা (রাঃ) ও ৬১০ এর কাছাকাছি সময়েই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। তার অর্থ আবারো দাঁড়ায় যে তিনি ৬১০ খৃষ্টাব্দের আগেই জন্মগ্রহন করেছিলেন এবং কোন ধর্ম গ্রহন করবার নূন্যতম বয়স (৬/৭ হলেও) তাঁর ছিল। তাহলে ৬২৩-৬২৪ সালে তার বয়স প্রায় ১৮-২০ হয়।
(Al-Sirah al-Nabawiyyah, Ibn Hisham, vol 1, Pg 227 – 234 and 295, Arabic, Maktabah al-Riyadh al-hadithah, Al-Riyadh)

হাম্বলি মাযহাবের ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন বিবি খাদিযাহ (রাঃ) র মৃত্যুর পরে (৬২০ খৃষ্টাব্দ) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্য খাউলাহ নামের একজন ২টা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। যার মধ্যে হযরত আয়েশার (রাঃ) র কথা উল্লেখ করবার সময় একজন পূর্ণবয়স্ক যুবতী হিসেবেই উল্লেখ করেন কোন ছোট্ট শিশু হিসেবে নয়।

(Musnad, Ahmad ibn Hanbal, Vol 6, Pg 210, Arabic, Dar Ihya al-turath al-`arabi, Beirut).

আবার ইবনে হাযর আল আসকালানি র মতে হযরত ফাতেমা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ) র থেকে ৫ বছর বড় ছিলেন। আর ফাতেম (রাঃ) র জন্মের সময় রাসুল (সাঃ) এর বয়স ছিল ৩৫ বছর। সে হিসেবে আয়েষা (রাঃ) র জন্মের সময় মুহাম্মদ (সাঃ) এর বয়স ৪০ হবার কথা। আর তাঁদের বিয়ের সময় আয়েশা (রাঃ) ৬/৯ না বরং ১৪-১৫ বছর বয়স হবার কথা।

(Al-isabah fi tamyizi'l-sahabah, Ibn Hajar al-Asqalani, Vol 4, Pg 377, Arabic, Maktabatu'l-Riyadh al-haditha, al-Riyadh,1978)

ওপরের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে বিয়ের সময় যে ৬/৯ বছরের শিশু ছিলেননা সেটাই দেখানো। আর কোন হাদীস যদি আল কোরআনের নির্দেশনার সাথে অসামন্জস্যপূর্ণ হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই সেই হাদীসের ওপর ভরসা রাখা যুক্তিযুক্ত না। তা সে বুখারী মুসলিম বা সমস্ত সিহাহ সিত্তাহতেই থাকুকনা কেন। আর এই বৈপরিত্য ধরবার জন্য নিজেদের বিবেককেও ব্যাবহার করা উচিত সকল মুসলমানের।


 বিখ্যাত স্কলারদের মতে আয়েশা (রা.) এর বিয়ের সময় বয়স ৯ বছর ছিলনা বরং তার বয়স কিছুতেই ১৭ বছরের কম হতে পারেনা এবং সম্ভবত তখন তার বয়স ১৯ বছর ছিল। আসলে এ বিষয়ে আমরা কম জেনেই অনুমানের আশ্রয় নিই। বিখ্যাত স্কলার আদিল সালাহি এ ব্যপারে কি বলছেন পড়ুন:

বিশিষ্ট স্কলার আদিল সালাহি এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাব দেন, যেটি প্রকাশিত হয় আরব নিউজে ৭ মার্চ ২০০৩ তারিখে। তিনি বলেন
"এ প্রশ্নটি ইসলাম এবং রাসুল (সা.)-এর ব্যক্তি চরিত্রের প্রতি আক্রমণ বৃদ্ধির সংগে সংগে বার বার উঠে আসছে। কিন্তু ইসলাম অথবা রাসুল (সা.)-এর চরিত্র এবং ব্যবহারে এমন কিছু নাই যার জন্য আমাদের ক্ষমা চাওয়ার বা বিব্রত বোধ করার প্রয়োজন আছে। তারপরও রাসুল (সা.)-এর সাথে আয়েশা (রা.)-এর বিয়ে এবং সে সময় তার বয়স প্রসংঙ্গে কিছু আলোচনা করা যেতে পারে যাতে প্রমাণ হয় এব্যপারে আদৌ অভিযোগ করার মত কিছুই নাই। এ ব্যপারে যে বর্ণনাটি সবচেয়ে বেশী উদ্ধৃত হয় তা হচেছ, রাসুল (সা.) যখন বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন আয়েশা (রা.)-এর বয়স ছিল ছয় এবং তিনি যখন তাকে বিয়ে করেন তখন তার বয়স ছিল নয়। মানুষ এটাকে প্রতিষ্ঠিত সত্য বলে গ্রহন করে থাকে। কিন্তু যখন আমরা এসব বর্ণনা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করি, তখন আমরা দেখতে পাই, এসব বর্ণনা এমনকি প্রাথমিক নিরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারেনা।
সর্বপ্রথম আমাদের যে বিষয়টি বুঝতে হবে তা হচ্ছে, রাসুল (সা.)-এর সময় আরব সমাজের অধিকাংশই ছিল নিরক্ষর এবং খুব কম লোকই লিখতে বা পড়তে পারত। বড় বড় ঘটনাগুলোর সন তারিখ হিসেব রাখার জন্য যেখানে কোন নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হত না, সেখানে মানুষের জন্ম মৃত্যুর তারিখ হিসেব রাখার কথাতো বাদই দেয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমরা পড়ি - রাসূল (সা.) জন্মগ্রহন করেছেন ‘হাতির বছরে’। হাতির বছর বলতে বোঝায় সেই বছর যেবার আবিসিনিয়ার সেনাপতি ইয়েমেন থেকে মক্কা এসেছিল এক বিরাট সেনাবাহিনী নিয়ে কাবা ঘর ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। একটি বড় হাতি সৈন্য বাহিনীর সামনে মার্চ করে আসছিল - আর তাই ঘটনাটি এবং বছরটি হাতির নামে পরিচিত হয়।
রাসূল (সা.)-এর সময় আরবে মানুষের বয়স সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো বিভ্রান্তিকর এবং অনির্দিষ্ট ছিল। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সাধারণ ধারণা হচ্ছে, খাদিজা (রা.)-এর সাথে রাসূল (সা.)-এর বিয়ের সময় রাসুল (সা.)-এর বয়স ছিল ২৫ অন্যদিকে খাদিজা (রা.)-এর বয়স ছিল ৪০। ইবনে হিশাম রচিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সিরাত গ্রন্থে এরকম উল্লেখ থাকলেও সে সময় রাসুল (সা.)-এর বয়স সম্পর্কে আরো দু’টি ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিয়ের সময় রাসূল (সা.)-এর বয়স ছিল ৩০, অন্যটিতে বলা হয়েছে ২৯। সে সময় খাদিজা (রা.) বয়স কত ছিল সে সম্পর্কেও বর্ণনার বিভিন্নতা আছে - কোথাও বলা হয়েছে সে সময় তার বয়স ছিল ৩৫ কোথাও বলা হয়েছে ২৫। রাসূল (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যদের একজন ছিলেন রাসূল (সা.)-এর চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস (রা.)। তার থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলেছেন, বিয়ের সময় রাসূল (সা.) ও তার স্ত্রী উভয়ের বয়সই ছিল ২৮ বছর। খাদিজা (রা.)-এর গর্ভে রাসূল (সা.)-এর ছয়টি সন্তান জন্মগ্রহন করেছে। এদিক থেকে বিচার করলে বিয়ের সময় তার বয়স চল্লিশ ছিল এমন ধারণা করার উপায় নেই, অথচ এটাই হচ্ছে সবচেয়ে প্রচলিত বর্ণনা। প্রকৃতপক্ষে তার বয়স এর চেয়ে অনেক কম হবার কথা। তার বয়স ২৮ অথবা ২৫ ছিল এমন বর্ণনাই অনেক বেশী যুক্তিসঙ্গত মনে করা যেতে পারে।
খাদিজা (রা.)-এর জীবদ্দশায় রাসূল (সা.) আর কাউকে বিয়ে করেননি এবং তিনি খাদিজার (রা.) সাথে ২৫ বছর কাটিয়েছেন। তার ইন্তেকালের পর যখন তিনি খুবই চাপের মুখে ছিলেন, তখন একজন মহিলা সাহাবী তাকে পরামর্শ দিয়ে বল্লেন, তার বিয়ে করা উচিৎ যাতে তিনি দিনের দীর্ঘ প্রচারকাজ শেষে বাড়িতে একজন সঙ্গিনী পান এবং স্বস্তি লাভ করতে পারেন। সেই মহিলা তাকে দু’জনের কথা বল্লেন, একজন কুমারী আয়েশা অন্যজন বিধবা সাওদা। রাসূল (সা.) তাকে দুজনের কাছেই প্রস্তাব নিয়ে যেতে বল্লেন।
রাসূল (সা.)-কে নতুন বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল তার জন্য একজন সঙ্গীনি এবং স্বস্তির ব্যবস্থা করা। কিন্তু যারা বলতে চান যে আয়েশা (রা.)-এর বয়স সে সময় ছয় ছিল তারা এটা বিশ্বাস করতে বলেন যে ঐ মহিলা সাহাবীটি রাসূল (সা.)-কে মাত্র ছয় বছরের একটি বালিকার সাথে বিয়ের তথা সঙ্গ লাভের প্রস্তাব করেছিলেন। আর বয়স সংক্রান্ত ঐসব বর্ণনা যদি গ্রহন করা হয় তাহলে সন্দেহ জাগা স্বাভাবিক যে, ঐ মহিলা সাহাবীটি কি তাহলে রাসূল (সা.)-কে সঙ্গ দেয়ার কথা বলছিলেন নাকি সঙ্গ দেয়া কথা বলছিলেন তার মেয়েকে, যার বয়স তখন ছয় বছরের চেয়ে বেশী ছিল ?
বর্ণনাগুলো শুধু যৌক্তিকতার আলোকে বিচার না করে একে কিছু দালিলীক ভিত্তি প্রমাণ স্বাপেক্ষে বিবেচনা করা উচিৎ। এজন্য আমরা ইবনে ইসহাক রচিত সিরাত গ্রন্থ দেখব। আর ইবনে ইসহাক রচিত সিরাত গ্রন্থ হচেছ সমস্ত সিরাত গ্রন্থগুলোর ভিত্তি এবং সবচেয়ে নির্ভুল। সেখানে সেসব মুসলিমদের একটি তালিকা আছে, যারা ইসলামী দাওয়াতের শুরুর বছরগুলোতে ইসলাম গ্রহন করেছিলেন। সেই তালিকাটিতে প্রায় পঞ্চাশ জন মুসলিমের নাম আছে। যার মধ্যে আবু বকরের দুই কন্যা আসমা এবং আয়েশার নামও অন্তর্ভুক্ত আছে। সেখানে এটাও যোগ করা আছে যে তিনি সে সময় ছোট ছিলেন। এই তালিকায় আয়েশার নাম এসেছে বিশ নম্বরে। কিন্তু আমরা এই ক্রমের উপর তেমন গুরুত্ব আরোপ করবনা। আমরা যে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেব তা হচ্ছে, এই তালিকার সমস্ত মুসলিমই ইসলাম গ্রহন করেছিলেন নবুয়্যতের পঞ্চম বছরের আগে। কেননা ঐ বছরই আবিসিনিয়ায় মুসলমানদের প্রথম হিজরত সংঘঠিত হয় এবং ঐ তালিকায় এমন অনেকের নাম ছিল যারা এই হিজরতে অংশগ্রহন করেছিলেন। তাই বলা যায় পঞ্চম বছরে বা তার পূর্বে আয়েশা (রা.) ছোট ছিলেন, কিন্তু নিশ্চয় ততটা বড় ছিলেন যাতে তার নাম একটি নতুন দাওয়াতে বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তার বয়স কত ধরে নিতে পারি আমরা ? নিশ্চয় মনে করা ঠিক হবে না যে তার বয়স ২ অথবা ৪ অথবা ৫ ছিল আর তারপরও তাকে কীর্তিমানদের নামের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই যদি হত তাহলে তালিকার পঞ্চাশজনের অন্যান্য সকলেরই যত বাচ্চা কাচ্চা ছিল সকলেরই নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হত। আসলে তিনি নিশ্চয় এতটা বড় ছিলেন যাতে তাকে ধর্ম পরিবর্তন করা বা নতুন ধর্ম গ্রহন করা - এই মাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে উল্লেখ করা যায়। এই হিসেবে লোকে যদি তাকে অনেক ছোট বলার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে চায়, তাহলেও তার বয়স ১০ অথবা ৮ এর কম হবার কথা না।
এখন আমাদের দেখতে হবে এর কত বছর পর তার বিয়ে হয়েছিল। আমরা জানি তার বিয়ে হয়েছিল রাসূল (সা.) এবং সাহবীদের মদিনায় স্থায়ী হবার পর, অর্থাৎ, নবুয়্যতের ১৩ কিংবা ১৪ তম বছরে। সাধারণ অংক কষলে দেখা যাবে যখন রাসূল (সা.)-এর সম্ভাব্য স্ত্রী হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তখন তার বয়স ১৪-এর কম হতে পারেনা বা অন্যভাবে বলা যায় রাসূল (সা.)-এর সাথে বিয়ের সময় তার বয়স ১৭-এর কম হতে পারেনা। এমনকি প্রবল সম্ভাবনা আছে যে তার বয়স আসলে আরও বেশী ছিল, সম্ভবত ১৯।
এখন কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে রাসূল (সা.) ৫৩ অথবা ৫৪ বছর বয়সে ১৭ বা ১৯ বছরের এক তরুণীকে বিয়ে করলেন কেন ? এটা বুঝতে হলে আমাদের একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে আমরা সামাজিক রীতি নীতিকে অপর একটি ভিন্ন সমাজের জন্য প্রযোজ্য করতে পারিনা - এমনকি যদি দু’টি সমাজ একই সময়েরও হয়। তাই আমেরিকার সামাজিক রীতি নীতি আফ্রিকা, মালয়েশিয়া বা জাপানে প্রযোজ্য নয়। আবার এদের কোন দেশেরটিই অন্য আর একটি দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। সেসময়ের আরবের লোকেরা একজন লোক ও তার স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্যের তেমন কোন গুরুত্ব আছে বলে মনে করতনা। এখানে উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ও তার মেয়ে হাফসার কথা তুলে ধরা যেতে পারে। যখন তার মেয়ের তালাক হয়ে গেল তখন উমর (রা.) আবু বকর (রা.)-কে তার মেয়ের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, যেখানে উমর (রা.) নিজেই আবু বকরের (রা.) চেয়ে ১০ বছরের ছোট ছিল। যদি বিয়েটি হত তাহলে স্বামী স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য ত্রিশের কম হতনা। তারপরও উমর ভাবছিলেন এটি একটি চমৎকার এবং প্রীতিকর জুটি হতে পারে। যখন আবু বকর এ প্রস্তাবের জবাব দিতে দেরী করছিলেন তখন তিনি উসমানকে (রা.) প্রস্তাব দেন, যে উমরের (রা.) চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের ছোট ছিল। কিন্তু উসমানের (রা.) বিয়ে না করার একটি কারণ ছিল, ফলে শেষে রাসূল (সা.)-এর সাথে উমরের কন্যা হাফসার বিয়ে হল। রাসূল (সা.) আবু বকরের সমবয়সী বা তার কিছূটা বড় ছিলেন। আসল কথা হল তখন বয়সের পার্থক্যকে গণনায় ধরা হত না।"
একজন বড় স্কলার এবং বর্তমান কালে লিখিত অন্যতম ও বিশাল সিরাত গ্রন্থের প্রণেতা হিসেবে আদিল সালাহির কথা অবশ্যই বিবেচনার দাবী রাখে। তদুপরি তিনি যে যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেছেন তা খুবই শক্তিশালী। অনেক সময় আমাদের মধ্যে দুর্বল ধারণাগুলো প্রচলন পায় বেশী। আশা করি আদিল সালাহির লেখাটি আমাদের ধারণাকে পূনুর্বিন্যস্ত করতে সহায়তা করবে এবং বিপথগামী কিছু লোকের মনগড়া অভিযোগের পথ বন্ধ করবে। যদিও তারা তাদের মুখ বন্ধ করবে কিনা জানা নেই। কারণ মিথ্যা অভিযোগকারীরা সাধারণত যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হয়না। তারা যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হোক এটুকুই আমরা কামনা করতে পারি মাত্র।


ইসলামে উত্তরাধিকার আইন (১): কতটা গাণিতিক ব্যবহারিক আইন

(লেখাটি দুটি অংশে বিভক্ত- আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর)

।।আলোচনা।।

ইসলামে উত্তরাধিকার আইন এত বিস্তৃত ও বিশাল পরিসরের যে সেটাকে একটা পোস্টে আলোচনা করা মোটামুটি দু:সাধ্য। তবে এটা নিয়ে লেখার তীব্র ইচ্ছা থেকে প্রায় সপ্তাহদুয়েক পরিশ্রম করে যথাসাধ্য সংক্ষিপ্ত পরিসরে নিয়ম কানুন শর্ত লিখবার কাজের একটা অংশ শেষ করি। এর জন্য আমাকে সাহায্য নিতে হয়েছে আমার সংগ্রহের ও অন্যান্য উৎস হতে পাওয়া অসংখ্য বই পত্রের ( কোন ওয়েবসাইট থেকে সাহায্য নেবার ব্যাপারে যথাসাধ্য শর্তকতা অবলম্বন করেছি)। এধরনের কয়েকটা বই হচ্ছে Islamic Inheritance Law,General Rules & Shares by Mohammad Razi,Sep-2008, Toronto, Canada, Moohummudan Law of Inheritance by A. Rumsey,london. The Islamic Law of Succession by Dr A Hussain
Islamic Inheritance Law by Dr Yusuf Ziya Kavakci
The Final Bequest by Muhammad Al-Jibaly,ইসলামী উত্তরাধিকার আইন,মো.ফজলুর রহমান আশরাফী,মুসলিম আইন-এম হাবিবুর রহমান
এবং একই সাথে যারা এ বিষয়ে আগ্রহী তাদের দেখা উচিত অন্যান্য সমাজ ব্যবস্থার (পুঁজিবাদ,সমাজতন্ত্র ও প্রমাণ প্রধান ধর্মসমূহ) উত্তরাধিকার আইন ।
এ পোষ্টে প্রতিটা তথ্য যা নিয়েছি তা প্রধান উৎস কুরআন ,হাদীস থেকে দেখে নিশ্চিত হবার চেষ্টা করেছি। তারপরও এ ব্যাপারে যারা আরও বিজ্ঞ তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, যদি কোন ভুল থেকে থাকে বা কোন পরামর্শ থাকলে দয়া করে জানাবেন-কৃতজ্ঞ থাকবো।



প্রাথমিক শর্তাবলী:
মৃত ব্যক্তির সম্পদ হতে তার অন্তেষ্টেক্রিয়া খরচ,তার ঋন থাকলে পরিশোধ,স্ত্রীর অপরিশোধিত দেনমোহর প্রদান সম্পন্ন করতে হবে। বাকি সম্পদের সর্ব্বোচ্চ ১/৩ অংশ তার উইলে (যদি থাকে) ব্যয় হবে। এসব কাজ শেষে যে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি থাকবে তা ইসলামি আইন অনুসারে উত্তরাধিকারিগণের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

উত্তরাধিকার আইনের উৎস:
ইসলামের জীবন যাপনের বিধি-বিধানকে বলা হয় শরীয়াত। আর এই শরীয়াতের উৎস হল চারটি: (১) আল কুরআন (২)সুন্নাহ বা হাদিস (৩)ইজমা ও (৪)কিয়াস। উত্তরাধিকার আইন একটি শরীয়া আইন হওয়ায় এর উৎসও এ ৪টি।
আল কুরআনের ৩৫ টি আয়াতে উত্তরাধিকার আইন নিয়ে বলা আছে,তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য-
সূরা বাকারা আয়াত ১৮০,২৪০
সূরা নিসা আয়াত ৭,৮,৯,১১,১২,১৯,৩৩,১৭৬
সূরা মায়িদাহ ১০৫,১০৮
কুরআন শরীফের আয়াতগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে হাদীস বা সুন্নাহ হতে। বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থগুলিতে(৬টি) উত্তরাধিকার আইন নিয়ে আলাদা আলাদা অধ্যায় রয়েছে।
পরবর্তীতে কুরআন ও হাদীসকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিশ্লেষণ করে আরও কিছু নিয়ম প্রবর্তিত হয়, এদের বলা হয় ইজমা।

ইসলামী উত্তরাধিকারিগণ: তিন ভাগে বিভক্ত, যথা-
১.যাবিল ফুরুজ বা অংশীদার: যাদের অংশ শরীয়ত দ্বারা নির্দিষ্ট।
২.আসাবা: যাবিল ফুরুজদের মধ্যে বন্টিত হবার পর যারা অবশিষ্টাংশ পায়
৩.যাবিল আরহাম: দুর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজন,উপরের দুই শ্রেনীর অনুপস্থিতে যারা অংশীদার হয়

ইসলামী উত্তরাধিকারি আইনের সংক্ষিপ্ত আউটলাইন:
উল্লেখ্য যে এটি উত্তরাধিকারি আইনের সংক্ষিপ্ত আউটলাইন, এ নিয়ম গুলো প্রাথমিক ,এদের দ্বারাই মোটামুটি সব বন্টন হিসাব করা যায়, আরও কয়েকটা শর্ত রয়েছে যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ হয়।
এখানে, অধস্তন= মৃত ব্যক্তির পুত্র,কন্যা, পৌত্র,পৌত্রি...ইত্যাদি
উর্ধ্বতন= মৃত ব্যক্তির পিতা,দাদা...ইত্যাদি
আসাবা=অবশিষ্টাংশ ভোগী
বোঝার নিয়মটা খেয়াল করুন,যেমন নীচে দেখুন ১(খ) এর নিয়ম হল"১.পিতা (খ)১/৬+আসাবা,যদি স্ত্রী অধস্তন থাকে"
এর অর্থ হল যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা,পৌত্রী..ইত্যাদি জীবিত থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির পিতা মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবে এবং পরবর্তীতে বাকি ওয়ারিশগনকে সম্পত্তির অংশ দিয়ে দেবার পর বাকি থাকলে সেখান থেকেও একটা অংশ পাবেন।


১ম উত্তরাধিকারি. যাবিল ফুরুজ বা নির্দিষ্ট অংশীদার(১২জন)
১.পিতা
(ক) ১/৬, যদি পুং অধস্তন(পুত্র,পৌত্র ইত্যাদি) থাকে
(খ)১/৬ + আসাবা, যদি স্ত্রী অধস্তন (কন্যা, পৌত্রী ইত্যাদি) থাকে
(গ)আসাবা, কোন অধস্তন না থাকলে
২.দাদা
(ক) ১/৬, যদি পুং অধস্তন থাকে
(খ) ১/৬ + আসাবা, যদি স্ত্রী অধস্তন থাকে
(গ)আসাবা, কোন অধস্তন না থাকলে
(ঘ) ০, যদি পিতা থাকে
৩. স্বামী
(ক) ১/২, মৃত স্ত্রীর কোন অধস্তন না থাকলে
(খ)১/৪, মৃত স্ত্রীর কোন অধস্তন থাকলে
৪. সৎ ভাই (মায়ের পক্ষের)
(ক) ১/৬ , (একজন হলে)
(খ) ১/৩, (একাধিক হলে)
(গ) ০, অধস্তন বা উর্ধ্বতন থাকলে
৫. স্ত্রী
(ক) ১/৪, অধস্তন না থাকলে
(খ)১/৮, কোন অধস্তন থাকলে
৬.কন্যা
(ক) ১/২, (একজন হলে) পুত্র নেই
(খ)২/৩, (একাধিক হলে) পুত্র নেই
(গ) পুত্র থাকলে ১:২=কন্যা:পুত্র
৭.পৌত্রী
(ক) ১/২, ( একজন) কন্যা নেই
(খ) ২/৩, ( একাধিক) কন্যা নেই
(গ)১/৬ ,কন্যা একজন
(ঘ)০ , কন্যা একাধিক
(ঙ)আসাবা, কন্যা একাধিক এবং পৌত্রির ভাই বা অধস্তন থাকে
(চ) ০, পুত্র থাকলে
৮. সহোদর বোন:
(ক) ১/২ (একজন)
(খ)২/৩ (একাধিক)
(গ)আসাবা, ভাই থাকলে (সেেেত্র বোন:ভাই=১:২)
(ঘ)আসাবা, স্ত্রী অধস্তন (কন্যা,পৌত্রী ) থাকলে
(ঙ) ০ ,পুং অধস্তন বা উর্ধতন থাকলে
৯. পিতার পক্ষের সৎ বোন
(ক) ১/২ (একজন)
(খ) ২/৩ (একাধিক)
(গ)১/৬, একজন সহোদর বোন থাকলে
(ঘ)০,একাধিক সহোদর বোন
(ঙ) আসাবা, একাধিক সহোদর বোন ও সৎ বোনের ভাই থাকলে
(চ) আসাবা, কন্যা বা পৌত্রী থাকলে
(ছ) ০ ,পুং অধস্তন বা উর্ধতন থাকলে ও ৮ এর (ঘ) হলে
১০.মায়ের পক্ষের সৎ বোন
(ক) ১/৬ (একজন)
(খ) ১/৩ (একাধিক বা সাথে সৎ ভাই থাকলে) শুধুমাত্র এখানে ভাই:বোন=১:১
(গ)০, যদি অধস্তন বা উর্ধ্বতন থাকে
১১.মাতা
(ক) ১/৬ যদি অধস্তন বা যে কোন প্রকারের ভাই বা বোন একাধিক থাকে
(খ) ১/৩ যদি অধস্তন না থাকে বা যে কোন প্রকারের ভাই বা বোন একাধিক না থাকে
(গ) অবশিষ্টর ১/৩, যদি অধস্তন না থাকে বা যে কোন প্রকারের ভাই বা বোন একাধিক না থাকে কিন্তু পিতা মাতা থাকে তাহলে মাতা অবশিষ্টর ১/৩ অংশ পাবে।
১২.দাদী
(ক)১/৬,পিতা-মাতা না থাকলে
(খ)০, পিতা-মাতা থাকলে


২য় উত্তরাধিকারি. আসাবাগণ (যাবিল ফুরুজদের মধ্যে বন্টিত হবার পর যারা অবশিষ্টাংশ পায়)
১. পুত্র,পৌত্র,প্রপৌত্র, পিতা,দাদা,পরদাদা, ভাই,ভাতিজা,ভাতিজা পুত্র, চাচা,চাচাত ভাই চাচাত ভাইয়ের পুত্র ক্রম অনুসারে আসাবা হবে
২.কন্যা,পৌত্রী,সহোদর ও পিতার পরে সৎ বোন: তাদের ভাই থাকলে আসাবা হবে এবং ১:২ অনুপাতে অংশীদার হবে
৩.যথাক্রমে সহোদর বোন ও পিতার পরে সৎ বোন: মৃত ব্যক্তির এক বা একাধিক কন্যা থাকলে ক্রম অনুসারে আসাবা হবে
*ক্রম অনুসারে হলে বোঝায় ১ম জন আসাবা হলে পরের আর কেউ হবে না, ১ম জন না থাকলে ২য় জন হবে ইত্যাদি

৩য় উত্তরাধিকারি. যাবিল আরহাম:
দুর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজন,উপরের দুই শ্রেনীর অনুপস্থিতে যারা অংশীদার হয়,যেমন -দৌহিত্র,দৌহিত্রী,ভাগিনা,ভাগিনী,খালা,ফুফু ইত্যাদি।


।।প্রশ্নোত্তর।।

প্রশ্ন ১.ইসলামে উত্তরাধিকারি আইনের উৎস হিসেবে কোরআন ছাড়াও হাদীস, ইজমা ও কিয়াসকে ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর: ইসলাম ধর্মে দিক্ষীত বা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির কাছে প্রশ্নটা হয়তো দুর্বল মনে হবে। কিন্তু এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইসলামে উত্তরাধিকারি আইন নিয়ে যখন আমি ইন্টারনেটে সার্চ করি তখন বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর সাইট বা সমালোচক সাইট গুলোতে এ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন পড়ে সর্বপ্রথম আমি উপলব্ধি করি এ প্রশ্নটার গুরুত্ব।
আসলে এ প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি এসেছে যারা খ্রিষ্ট ধর্ম বা ইহুদি ধর্মঅনুসারী বা এসব ধর্মের জ্ঞান থেকে যারা প্রশ্ন করে। কারন হল,খ্রিষ্টধর্মালম্বীদের সমস্ত ধর্মীয় আইন কানুনের উৎস একটিই, বাইবেল ((উভয় টেস্টামেন্ট) এবং ইহুদিদের ওল্ড টেস্টামেন্ট। অন্যান্য অনেক ধর্মের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা কাছাকাছি।
কিন্তু ইসলাম ধর্মে বিষয়টা কী রকম? ইসলামের জীবন যাপনের বিধি-বিধানকে বলা হয় শরীয়াত। আর এই শরীয়াতের উৎস হল চারটি: (১) আল কুরআন (২)সুন্নাহ বা হাদিস (৩)ইজমা ও (৪)কিয়াস। কিন্তু এর প্রাথমিক শর্ত হল এ চারটি উৎস কখনো পরস্পরবিরোধী হবে না এবং অধিক গুরুত্ব অনুযায়ী ক্রমটি দেয়া।
(১)আল কুরআন : ইসলামিক সকল আইনের প্রথম ও প্রধান উৎস হল আল কুরআন। লক্ষ্যলনীয়, ইসলামী আইন তৈরির ক্ষেত্রে কুরআনের শুধুমাত্র একটি বা দুটি আয়াত অনুসরণ করলেই হবে না,সমগ্র কুরআন কে বিবেচনায় আনতে হয়।
(২)হাদীস: ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী মুহম্মদ(সা) এর নবী জীবনের সকল কথা,কর্ম, অনুমোদন,ব্যাখ্যা বিশ্লেষণই হল হাদীস। কুরআন মাজীদ নাজিল হয়েছিল তাঁর মাধ্যমে এবং কুরআনের সব সংপ্তি বিষয়ের ব্যাখ্যা বুঝিয়ে দেবার দায়িত্ব ছিল মুহম্মদ(সা)এর ওপর। যেমন-কুরআনে বলা আছে মদ্যপান নিষেধ, কিন্তু হাদীসে মদ্যপানের সাথে জড়িত কোন কোন পেশা নিষেধ তা ব্যাখ্যা দেয়া আছে। এ সম্পর্কে কুরআনের সূরা আননাহলের ৪৪ নং আয়াতে বলা আছে, আর আমি আপনার নিকট কুরআন নাযিল করেছি, মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেবার জন্য যা তাদের উপর নাযিল করা হয়েছে,যাতে তারা চিন্তা ভাবনা করে। এছাড়া সূরা হাশরের ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক। লক্ষ্যনীয় হাদিস সর্বদা বিশুদ্ধ উৎস(যেমন-সহীহ বুখারী,সহীহ মুসলিম ইত্যাদি) হতে গ্রহণ করতে হবে।
(৩) ইজমা: ইজমার শাব্দিক অর্থ ঐক্যমত।অর্থাৎ কোন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগন ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে নিয়ম বা আইন তৈরি করেন তাই ইজমা। আসলে কুরআন ও হাদীস কোন দেশের সংবিধানের মত নয় কিন্তু এ উৎসদ্বয় হতে সংবিধান তৈরি করা যায়। যখন একটি দেশ গঠিত হয়, তার লিখিত আইন থাকতে হয়,সময়ের প্রয়োজনে নতুন আইনের প্রয়োগ দরকার হয়,সেইসব আইন তৈরির সময় কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী যে নিয়ম তৈরি হয় তাই ইজমা দ্বারা নির্ধারিত হয়। এ উৎস কুরআন ও হাদীস দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে,আল কুরআনের সূরা আননিসার ১১৫ নং আয়াতে মুমিনগনের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । মুহম্মদ(সা)বলেছেন, মুসলমানগণ যা ভাল বলে গ্রহণ করে তা আল্লাহর কাছেও ভাল। শরীয়াতের বিষয়ে ইজমা অকাট্য দলিলে পরিণত হয়। ইজমা কখনো কুরআন-হাদীসের পরিপন্থি হবে না,শুধুমাত্র নতুন কোন সমস্যার ক্ষেত্রে কুরআন হাদীস অনুযায়ী ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
(৪)কিয়াস : নতুন কোন সমস্যায় পুরাতণ কোন সমস্যার সমাধানকে প্রবর্তন করাই কিয়াস, অর্থাৎ আগের তিনটি উৎসে যে ইসলামিক আইন রয়েছে তার কারন অনুসন্ধান করে নতুন সমস্যা সমাধানে সে কারন সংশ্লিষ্ট হলে তার মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধান করা, তবে তা কখনো আগের তিনটি উৎসের পরিপন্থী হবে না বা সেসব উৎসের মূলনীতি বিরোধী হতে পারবে না কখনো যদি দেখা যায় কিয়াস তাদের পরিপন্থি তাহলে তা বাদ হয়ে যায়।
ইসলামী উত্তরাধিকারি আইনে শরীয়াতের এ উৎসসমূহ ব্যবহৃত হয়, প্রকৃত পক্ষে ইসলামের সব আইন তৈরি হতে এ উৎসসমূহ ব্যবহার হয়,তাই এসব আইনকে শরীয়া আইন বলে। ইসলামে উত্তরাধিকার আইন কুরআন শরীফে একদম মূল বিষয়গুলি সংক্ষেপে বলা হয়েছে, তাঁর বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে হাদিসে, পরবর্তীতে আরও কিছু নিয়ম যুক্ত হয়েছে গভীর ভাবে কুরআনও হাদীস ব্যাখ্যার মাধ্যমে, কিন্তু কোন নিয়ম বা মূলনীতি কুরআন বা হাদীস এর পরিপন্থি নয়।
তাই প্রশ্নটা অবান্তর, শুধুমাত্র উত্তরাধিকার আইন নয়,প্রায় সকল ইসলামী আইনই ব্যাখ্যার জন্য কুরআনের পাশাপাশি হাদীস,ইজমা ইত্যাদি উৎসের সাহায্য নিতে হয়।






প্রশ্ন২. আউল বা রদ্দ নীতি কি কোরআন শরীফের নির্ধারিত অংশের বিরুদ্ধে যায় ?

উত্তর: এ প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতাহেতু এটা অমুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ ,এমনকি মুসলিমদের মধ্যেও এ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, এ নিয়মটার জন্য অনেকে দাবি করছে কোরআন শরীফে গানিতিক ভুল আছে, সৃষ্টিকর্তা গণিত জানে না।
বিষয়টা কিছুটা এরকম,
ধরুন কাসে গণিতের টিচার ছাত্রদের বললেন,নেক্সট পরীক্ষায় যে অংকগুলি থাকবে তা বোঝার জন্য টেক্সট বইয়ের বাইরে আরও কয়েকটি রেফারেন্স বইয়ের সূত্র লাগবে। তো পরীক্ষার আগে কোন ছাত্র শুধু টেক্সট বই পড়ে গেলো এবং যথারীতি পরীক্ষায় আসা কয়েকটি অংক পারলো না। পরে সবাইকে বলে বেড়াল ঐসব অংকে ভুল ছিল বা টিচার অংক জানে না।
কোরআন শরীফে বলে দেয়া হচ্ছে যে হাদীসের সাহায্য নেয়ার জন্য,তা না নিয়ে গাণিতিক ভুলের দাবিটা কিছুটা সেরকম।
এ আইন বহু বিখ্যাত গণিতবিদদের দ্বারা পরীক্ষীত হয়েছে। মুসা আল খোয়ারজমী,৮৫০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালীন একজন গণিতবিদ, যার বইয়ের প্রভাব ইউরোপে এতটাই ছিল যে তখন তার হিসাব আল জাবর ওয়াল মুকাবিলাহ ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ল্যাটিনে অনূদিত হয়ে শ্রেষ্ঠ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে পড়ানো হয়। তার বইয়ের আল জাবর থেকে আলজেবরা শব্দের উৎপত্তি। তার এই গ্রন্থে ইসলামিক উত্তরাধিকার আইনটির গানিতিক দিক নিয়ে একটা অধ্যায় আছে, যেখানে তিনি সম্পদ বন্টণের জন্য লিনিয়ার ইকুইশন প্রবর্তন করেন। উত্তরাধিকার আইন এতটাই গনিতের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ যে এটি গণিতের একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ( Gandz, Solomon (1938), "The Algebra of Inheritance: A Rehabilitation of Al-Khuwarizmi", Osiris (University of Chicago Press 5: 319-91 )
তাছাড়া উত্তরাধিকার আইন তৎকালীন মুসলিম গণিতবিদদের জন্য একধরনের প্রেরণা ছিল, এটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অর্থাৎ গানিতিক ভাবে কুরআনের মূলনীতির মাধ্যমে সম্পদ হিসাব করার জন্য গণিতের অনেক নতুন বিষয় আবিষ্কৃত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য উত্তর আফ্রিকার ১২ শতাব্দীর গণিতবিদ আল হাসার লব ও হরের হিসাবের জন নতুন গানিতিক নোটেশনের ধারণা প্রদান করেন। তার এই গাণিতিক নিয়ম পরবর্তীতে ১৩ শতাব্দীতে ইউরোপের বিখ্যাত গণিতবিদ ফিবোনক্কির কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ( Prof. Ahmed Djebbar (June 2008). "Mathematics in the Medieval Maghrib: General Survey on Mathematical Activities in North Africa". FSTC Limited.)
এসব কারনে ইসলামের ও কোরআনের অনেক বড় সমালোচক গনও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে কোন বিরূপ মন্তব্য করার চিন্তাও করেনি-যেমন ড. ক্যাম্পবেল,যার পিএইচডি এর বিষয় ছিল কুরআন তথা ইসলামের দুর্বল দিক গুলো তুলে ধরা,সেও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে কোন সভায় কোন মন্তব্য করেনি। শুধুমাত্র এ আইনে স্বল্প জ্ঞান সম্পন্ন অতি উৎসাহী ইসলামের সমালোচকরা নানা বাগাড়ম্বর করে থাকে।

এই আইন এতটা সুচিন্তিত,বিস্তৃত ও গণিতবান্ধব যে, অনেক অমুসলিম আইনবিদও এটাকে অকুন্ঠচিত্তে সমর্থণ জানিয়েছে,যেমন: কিংস কলেজ,ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রফেসর,আইনবিষয়ক অনেক গ্রন্থের লেখক ও আইনবিদ(ব্যরিস্টার অ্যাট ল) আলমারিক রামসে তার এক বইয়ে বলেন-মুসলিম উত্তরাধিকার আইন হল সভ্য সমাজে প্রচলিত সবচেয়ে বিস্তৃত ও বিশুদ্ধ্ উত্তরাধিকার আইন ও সব প্রশ্নের উর্ধ্বে। ( Rumsey, A. Moohummudan Law of Inheritance. 1880)

আউল নীতি: আউল শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি হওয়া। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয় তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয় সেটাই আউল। কোরআন শরীফে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়াটা গাণিতিক ভাবে ও অনুপাত ভিত্তিক বন্টনে যদিও সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়, তাই হাদীসে এ পরিস্থিতির উদাহরণ নেই,তবে চার খলিফা আমলে এটি আলোচিত হয় ও পরবর্তীতে শরীয়তের ৩য় উৎস কিয়াসের মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

রদ্দ নীতি: রদ্দ এর আভিধানিক অর্থ প্রত্যাবর্তন করা । এটি আউলের বিপরীত নিয়ম। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোন আসাবা না থাকে তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী স্ত্রী ব্যতিত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করা হয়।

তিনটি উদাহরণ :
১. জলিল সাহেব মৃত্যুকালে পিতা ও এক কন্যা রেখে গেল
প্রথমত, কন্যা পাবে ১/২ অংশ
পিতা পাবে ১/৬
এখানে ,১/২+১/৬=৪/৬ , সুতারাং আসাবা বা অবশিষ্টাংশ = ১-৪/৬= ২/৬
দ্বিতীয়ত, ১(খ) অনুযায়ী, পিতা এই আসাবা পাবে। তাহলে মোট পিতার অংশ=১/৬+২/৬ =৩/৬ =১/২ ও কন্যার অংশ=১/২
২.কামাল সাহেব ১ কন্যা ও মা রেখে মারা গেলেন।
প্রথমত, কন্যা পাবে ১/২
মা পাবে ১/৬
মোট ১/২+১/৬=৩/৬+১/৬=৪/৬
দ্বিতীয়ত, রদ্দনীতি প্রয়োগ করে পাই-৩/৪+১/৪=৪/৪=১
তাহলে, কন্যা ৩/৪ ও মা ১/৪ অংশ পাবে।

৩.আনিস সাহেব মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ সহোদর বোন ও ২ জন মায়ের পরে সৎ বোন রেখে গেল।
প্রথমত, এখানে স্ত্রী পায় ১/৪
সহোদর বোনদ্বয় ২/৩
সৎ বোনদ্বয় ১/৩
মোট= ১/৪+২/৩+১/৩ =৩/১২+৮/১২+৪/১২=১৫/১২
দ্বিতীয়ত, ১এর বেশি হওয়ায় আউল অবলম্বন করে হরকে ১৫ করে পাই,
৩/১৫+৮/১৫+৪/১৫=১৫/১৫=১
তাহলে স্ত্রী ৩/১৫,বোনদ্বয় ৮/১৫ ও সৎ বোনদ্বয় ৪/১৫ অংশ পাবে।
উদাহরণ তিনটিতে দেখা যায় প্রথম ২টি উদাহরনে অংশ বৃদ্ধি পায়, দ্বিতীয়টিতে অংশ কিছুটা হ্রাস পায়। এখন ১ম নিয়মটি সাধারন ভাবে আসাবা বা অবশিষ্টাংশভোগী নিয়মে করা হয়েছে ,২য় টি রদ্দ ও ৩য়টিতে আউল নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে।
দেখা যাচ্ছে কুরআনে বর্ণিত অংশ প্রাপ্ত হবার পর সে অংশ দ্বিতীয় ধাপে বাড়তে বা কমতে পারে, আর সেটা মোটেও কোরআনের পরিপন্থি নয় । কোরআনে এ সংক্রান্ত আয়াতগুলোতে দেখা যায় কয়েকজনের অনুপাত উল্লেখ করা হয় নি, যেমন পুত্র,ভাই,চাচা ইত্যাদি। এখন কেউ যদি বলে এদের উল্লেখ নেই, তাহলে এদের ভাগ দেয়া হলে কুরআনের বিরুদ্ধে যাবে, তাহলে তা অবান্তর মন্তব্য হবে। আসলে কোরআনে উল্লেখিত অংশ দেবার পর যা বাকি থাকবে সেখান থেকে তাদের অংশ নির্ধারিত হয়। আবার কখনো নিদির্ষ্ট অংশভোগীরাও তা পেতে পারে (যেমন- উদা ১), রদ্দ নীতিতেও বেশি পেয়ে থাকে। তাই নির্ধারিত অংশের বেশি পাওয়া ইসলামী আইনের পরিপন্থি নয়।
অধিকাংশ প্রশ্নে আমি দেখেছি আউল নীতি নিয়ে যত প্রশ্ন অথচ বেশি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন নেই । কিন্তু গণিতের দৃষ্টিতে বলা যায়, বৃদ্ধি ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুইই হতে পারে আর আউল নীতিতে এই বেশি পাওয়া নীতি বা রদ্দ নীতির বিপরীত হয়, খুব স্বাভাবিক ভাবেই তা হয়।
ইসলামে উত্তরাধিকারি আইনে আউল ও রদ্দ নীতিতে পরস্পরের সম্পদের অনুপাত ঠিক রাখা হয়, তাই এভাবে বন্টন গাণিতিক ভাবে অত্যন্ত গ্রহনযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক। যেমন ২ নং উদাহরণে প্রথমত অনুপাত থাকে, কন্যা:মা=৩/৬:১/৬=৩:১
রদ্দ নীতি প্রয়োগের পর এ অনুপাত, কন্যা:মা=৩/৪:১/৪=৩:১
৩নং উদাহরণের আউল নীতিতেও ৩:৮:৪ অনুপাত ঠিক থাকে।
তাই বলা যায়, রদ্দ আউল ও অন্যান্য শরীয়া নিয়ম যা শরীয়তের উৎসসমূহ থেকে করা হয়েছে তা কোনটিই পরস্পর পরিপন্থি বা কোরআন পরিপন্থি নয় এবং ইসলামি উত্তরাধিকার আইন একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ গাণিতিক বা বৈজ্ঞানিক ব্যবহারিক ব্যবস্থা।

(allah knows the best)





পরবর্তীতে আলোচনার ইচ্ছা রইল-
>ইসলামিক আইনে সম্পদের অংশে পুরুষ নারীর প্রাপ্য অংশের দ্বিগুন পায়,এতে কি নারীর অধিকার খর্বিত হচ্ছে না!
>ইসলামে উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তন করার দাবি কতটা যৌক্তিক!




নাস্তিকতাময় আমার একদিন!!

 http://media.somewhereinblog.net//images/authors/bangabiraj-166388_141407862581922_100001381286324_245938_2791679_n_(1).jpg
এখন সন্ধা।
আমি বসে আছি নিলয় স্যারের বসার ঘরে । স্যার একটু ব্যস্ত। আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নাই। আমার মাথা তা ঢুলু ঢুলু করছে। হালকা নেশা করেছি! বেশি না । বন্ধুদের সাথে ২ পেগ হুইস্কি খেলাম আজ। জীবনের প্রথম মদ্য পান । মদ্যপান খারাপ জিনিস না- ভালই লেগেছে! কেমন যেন নিজেকে ভাবুক ভাবুক লাগছে!

আমি সোফায় হেলান দিয়ে আজকের দিনটার কথা ভাবছি! আজ আমি নাস্তিক ধর্ম পালন করেছি! নিলয় স্যার আমাকে দীক্ষা দিয়েছেন নাস্তিকতার। উনি আমাদের জেলা শহরের কলেজের পদার্থের শিক্ষক। আমার সাথে ওনার অনেক ভালো সম্পর্ক। উনি তার কথা ও যুক্তি দিয়ে আমাকে ঘায়েল করেছেন। উনি বিজ্ঞান, দর্শন দিয়ে আমাকে বুঝিয়েছেন যে পৃথিবীতে ইশ্বর বলে কিছু নেই। ইশ্বরের বাস আমাদের মনে, আমাদের ভয়ে!

বেঞ্চমার্ক মুহাম্মদ (স): লাইফ ইজ বিউটিফুল ! ট্রাই করেই দেখুন না একবার ! প্লিজ..!!

জন্মের আগেই তিনি বাবাকে হারান। মা ও চলে যান ৬ বছর হতে না হতে। শেষ সম্বল দাদাও ওপারে পাড়ি জমান ৮ম বছরে। দরিদ্র চাচার ঘরে শেষ আশ্রয়। একই কস্ট যাদের বুকে আছে তারা এভাবে ভাবতে পারেন যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটির শুরুটা এমনই ছিল। এতটাই শুন্য। সমাজের এমনতর শিশুটির প্রতি হাতটা বাড়িয়ে দিন। হয়তো সে ও বড় কিছু হবে। চাচা হলে পরম মমতায় কোলে নিন অনাথ ভ্রাতুস্পুত্র/ত্রীটিকে। তার জমি-জমা কেড়ে নেয়ার চক্রান্ত্ বাদ দিন।



তিনি শুয়ে বসে চাচার ঘরে খাননি। একপাল ছাগল/দুম্বা চড়াতেন। হেল্প করতেন নানানভাবে। সিরিয়ার দিকে ও হজের সময় চাচার ব্যবসায় লেগে গেছেন কৈশোরেই। আমাদের কৈশোরও অল্প-বিস্তর এমনটি হতে পারে। মাকে একটু হেল্প। বাবার আয়ের সাথে দুটো টাকার যোগ। জগতটাকে চেনা। হতে পারে ক্ষুদ্র ব্যবসা বা চাকরী। যখন যেখানে যেভাবে পারা যায়।



কৈশোরেই ছেলেটি আল-আমিন উপাধি পেয়ে যায় পাড়ার লোকদের কাছে। তজ্জন্য নবী বা রাসুল হবার দরকার পড়েনি। স্কুল-গামী কিশোরিদের শিষ দেয়া বা নিছক বোকা সোকা ভাল ছাত্র হবার চেয়ে Active ভাল ছেলে- সৎ, সাহসি হিসেবে নাম ফুটলে দোষ কি?



বিশিস্ট ব্যবসায়ী মিসেস খাদিজার ব্যবসায়িক ফার্মে ম্যনেজার হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি অল্প সময়েই সৎ, দক্ষ, ব্রিলিয়ান্ট অফিসার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যান। পরিস্থিতি এতটাই ভালোর দিকে গড়ায় যে খাদিজা (র) সমস্ত ব্যবসার দায়িত্বই তাকে দিয়ে দেন। এমনকি জীবনাটাও একসাথে কাটানোর প্রস্তাব পাঠান। আমরা যারা অন্যের ব্যবসা প্রতিস্টানে কাজ করছি তাদের কাছে এর চেয়ে ভালো Example কি হতে পারে? টুক টাক চুরি না করে বড় কিছু করাই কি ভালো নয়?



ব্যবসার মালিকানা হাতে পেলে তিনি হলেন Employer. জগৎবাসীর কাছে এর চেয়ে ভাল বস্‌ আর কে হতে পারে? আমরা যারা বস্‌ আছি তারা অনায়াসেই মুহাম্মদ (স) কে ভালো বসের উপমা হিসেবে নিতে পারি। পরবতীকালে উনার রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে উনি কেমন নেতা ছিলেন তাও আমরা জানি। ফালতু কথা, মিথ্যাচার, বেইনসাফি, বেঈমানির নেতাগিরির কালচারটা বাদ দিয়ে আমরাতো তাঁর মত নেতা হতে পারি। যে পার্টিই হোকনা কেন। অন্তত: কর্মিদের কাছে।



তিনি ছিলেন স্বামী, পিতা, দাদা, চাচা সবই। কেমন আচরণ করেছেন আত্নীয়কুলের সাথে। দুধ-মা হালিমা বা দুধভাইর সাথে। আমরা কেমন করি? মেকিভ্দ্রতার খোলস ছেড়ে আমরা চাইলে তেমন হতে পারি।



তিনি অনেকের প্রতিবেশি ছিলেন। দূর কোন বনবাদাড়ে থাকতেন না। ঢাকা শহরে আমার প্রতিবেশিরা কেমন আছে? তারা কি খায়? গ্রামান্চলের প্রতিবেশি সম্পর্কই বা কেমন? রেষারেষির অনল বা আধহাত সীমানা গন্ডগোলের চক্র থেকে চাইলে আমরা বেরুতে পারি। মনটা ভাল থাকবে।



তিনি মেহমান হতেন। তবে অল্প সময়ের জন্য। বে আক্কেলের মত দিনের পর দিন আত্নী্য় বাড়িতে পড়ে থাকতেননা। গৃহকর্তার সামর্থ্যমত আপ্যায়নে পরমতৃপ্ত হতেন। 'বোরহানি বা ডিম ছিলনা' বলতে বলতে বিয়েবাড়ি ত্যাগের ঘৃন্যতা ছিলনা উনার মধ্যে। আসুন আমরা তেমন হই।



মেহমান আসত তার কাছে। প্রায়ই। এমনকি রাতে বিছানা নস্টকরে চলে যাওয়ার রেকর্ডও আছে। রাগ করেননি। কৃত্রিম হাসি দাতে চেপে 'খেয়ে গেলে ভাল হতোনা' ধরনের ভন্ডামি করেন নি। ধনী আর দরিদ্র ভেদে বিহেভ করেননি। আসুন বিষয়টা শোধরাই।



মুসলিম ছাড়াও ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক নানাবিধ অনুসারিদের সাথে তিনি চলাফেরা, উঠাবসা, লেনদেন করেছেন। কারও বিন্দুমাত্র সম্পদ লুট করেন নি। মানুষের অধিকারের প্রতি চরমতর শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। হিন্দুর জমি, বসত ভিটা, দোকান লুট করে যেসব মুসলিম 'লেকচার' দেন তাদেরজন্য ডাবলঘৃনা। এমনকি ভিন ধর্মানুসারীদের নুন্যতম 'হেয়' চোখে দেখাও ঘোরতর অপরাধ।



মুহাম্মদ (স) সৈনিক, সেনাপতি, রাজনৈতিক, বিরোধিদলীয় নেতা, সরকার প্রধান, রাস্ট্রপ্রতি, ইমাম, মুসল্লি, পথচারী, কয়েদি, জেলার, লোনদাতা, লোনগ্রহীতা, বক্তা, শ্রোতা অসংখ্য চরিত্রে 'অভিনয়' করেছেন। ধনাঢ্যতা, দারিদ্র্য, নিপিড়ীত, ক্ষমতাবান সব ধরনের সময় পেয়েছেন। আমরাও এর কোন একটি সময় বা চরিত্র পার করছি।



অনুসরন করতে চাইলে পুরোটাই তার কাছে পাওয়া যাবে। কেননা মুহাম্মদ (স) পেশাদার কোন নান, পাদ্রী, মাওলানা, ঠাকুর, পীর, দরবেশ ছিলেননা, তিনি ছিলেন হাজারো মানুষের মাঝে, আমাদের মত সুখে কিবা দুখে, শৈশবে, যৌবনে এবং বাধর্ক্যে। সদা। ফলো করলে শান্তি পাবেন।

পাখিদের উড্ডয়ন: রহস্য ও প্রজ্ঞার V


শীতের হিমেল হাওয়ায় ভেসে আসা অতিথি রাজহংস কিংবা সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা সরালীর ঝাঁকে যদি কখনো তাকান, দেখতে পাবেন V আকারে এগিয়ে চলছে পাখির দল।


কেন এই V আকারে ভেসে চলা? কারণটি কি এই, পাখিরা E বা G কিংবা অন্য কোনো বর্ণ ফুটিয়ে তুলতে পারে না আকাশে!

অধিকাংশ পাখি-বিশেষজ্ঞ (ornithologist) বিশ্বাস করেন, বিন্যাসটি সুদক্ষ উড্ডয়নের প্রয়োজনে গঠিত হয়, যদিও তারা এ ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বহুদিন। এই শতাব্দীর একেবারে শুরুতে বিজ্ঞানীদের একটি দল ছোট বিমানের পেছন পেছন উড্ডয়নের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক ঝাঁক পেলিক্যানের উপর গবেষণা করে দেখতে পান, V বিন্যাসে উড়ার সময় পাখির হৃদস্পন্দন, একা একা উড়ার সময়কার হৃদস্পন্দনের চেয়ে কম থাকে। ধীরে ধীরে প্রমাণ মেলে পাখির বায়ুগতিবিদ্যা (aerodynamics) সংক্রান্ত নানা বিস্ময়কর তথ্যের:

উড্ডয়নের জন্য ঝাঁকের একটি পাখি যখন ডানা ঝাপটায়, এর ঠিক পেছনের পাখিটির উপর বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী ঘূর্ণাবর্ত (vortex) সৃষ্টি হয়। ঊর্ধ্বচাপের সুবিধা কাজে লাগিয়ে পেছনের পাখিটি সামনেরটির চেয়ে একটু উপরে অবস্থান করে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম শক্তি ব্যয় করেও ভেসে থাকে। এভাবে পাখির ঝাঁকটি একা একা উড্ডয়নে অতিক্রান্ত দূরত্বের চেয়ে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে!

যদি কোনো পাখি বিন্যাসের বাইরে চলে যায়, সাথে সাথে এটি বাতাসের অতিরিক্ত টান (drag) ও বাধা অনুভব করে। পরিবর্তনটি বুঝতে পেরে পাখিটি দ্রুত বিন্যাসে চলে আসে এবং সামনের পাখিটির কাছ থেকে সৃষ্ট উড্ডয়ন সুবিধা লাভ করে।


সামনের দলনেতা পাখিটি বাতাসের সবচেয়ে বেশি বাধা অনুভব করে, এবং ক্লান্ত হয়ে গেলে পাখা ঝাপটানোর বেগ কমিয়ে দিয়ে এটি ঝাঁকের পেছন দিকে সরে আসতে থাকে। পেছনের আরেকটি পাখি তখন নেতার স্থানটি গ্রহণ করে।
মজার ব্যাপার হলো, V-এর দুই ডানার সবচেয়ে পেছনের পাখি দুটি আবার মাঝের পাখিগুলির চেয়ে বেশি টান অনুভব করে, ফলে ক্লান্তি লাঘবের জন্য এদেরও নিয়মিত স্থান পরিবর্তিত হতে থাকে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব পাখি ঝাঁকের মাঝখানে থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা লাভ করে এবং অগ্রভাগে নেতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি বাধার মুখোমুখি হয়।


V-বিন্যাস পাখিদের যোগাযোগ রক্ষার কাজটি সহজতর করে। এ বিন্যাসে পাখিরা পরস্পরের সাথে খুব চমৎকার ঐক্ষিক যোগযোগ (visual contact) বজায় রাখতে পারে, যা ঝাঁকটি সুসংহত, ঐক্যবদ্ধ রাখে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমার সময় এতে ঝাঁক থেকে পাখি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমে যায়। এ ছাড়া পেছনের পাখি চিৎকার করে সামনের পাখিকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়ে যায়, যাতে সামনের পাখি তার গতিবেগ বজায় রাখে।


কোনো পাখি অসুস্থ, শিকারীর গুলিতে আহত, কিংবা খুব ক্লান্ত হয়ে বিন্যাসের বাইরে চলে গেলে, তার সাথে আরো পাখি নেমে আসে সাহায্য ও নিরাপত্তার জন্য। এরা অসহায় পাখিটির সাথে থেকে যায় যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় বা মারা যায়। তারপর তারা উড়ে মূল দলের কাছে পৌঁছে যায়, নতুবা অন্য কোনো দলের সাথে জুড়ে যায়, কিংবা নিজেরাই নতুন বিন্যাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।

____________________



কত অপার রহস্য ছড়িয়ে রেখেছেন স্রষ্টা! চারপাশে বিরাজমান সহমর্মিতার কত না নিদর্শন! পাখির কাছে বিজ্ঞান ও মানবতার কী গভীর প্রজ্ঞা!

-রাইটার : ম্যাভেরিক

“সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” – এই প্রশ্নের সরল উত্তর

“মুক্তমনা” নাস্তিকরা, “ডি-জুস”-কালচারে-বড়-হওয়া নিজের দ্বীন-সম্বন্ধে-একেবারে-অজ্ঞ কোন কিশোর বা তরুণকে যে ক’টি প্রশ্ন করে ভড়কে দেয়, তার একটি হচ্ছে: “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” অথচ, একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে, এই প্রশ্নটা সেই গ্রাম্য “শঠ-পন্ডিতের” সাথে “সত্যিকার পন্ডিতের” বিতর্কের প্রসিদ্ধ গল্পের মত – যেখানে “শঠ-পন্ডিত” তার প্রতিদ্বন্দিকে জিজ্ঞেস করেছিল: I don’t know – মানে কি?
চলুন দেখি “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” এই প্রশ্নের একটা সরল উত্তর ভেবে দেখা যাক:

স্রষ্টা এমন সত্তা যিনি সৃষ্ট নন, তিনি অস্তিত্বে আসনে নি বরং সর্বদা অস্তত্বিশীল এবং তিনি সৃষ্টিজগতের স্থান-কাল কাঠামোর অংশ নন ৷ আর এজন্যই তিনি অসৃষ্ট বা অবস্তু, ফলে তাঁর সৃষ্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই ৷ এজন্য স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন, এই প্রশ্নটিই অবান্তর ৷ যেমন একটি ছবি কে এঁকেছে, এর উত্তরে একজন চিত্রশিল্পীর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক, কিন্তু “চিত্রশিল্পীকে কে এঁকেছে?” এই প্রশ্নটি অবান্তর কেননা চিত্রশিল্পীর ক্ষেত্রে “আঁকা” নামক ক্রিয়াটি প্রযোজ্য নয় ৷ তাই চিত্রশিল্পীর অংকিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, অন্য কথায় “অংকিত নয়” এমন একজন অংকনকারী থাকা সম্ভব ৷ একইভাবে “সৃষ্ট নন”, এমন একজন স্রষ্টা থাকা সম্ভব, তাই বার্ট্রান্ড রাসেলের “হু ক্রিয়েটেড গড মাম?” এই প্রশ্ন করা অযৌক্তিক, অবান্তর, বোকামী ৷ আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক ৷ ধরা যাক আপনি অনেক দীর্ঘ একটি তাসের সারির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনি দেখছেন একটি একটি করে তাস পড়ে যাচেছ এবং পড়ে যাওয়ার সময় সে পরের তাসটিকে ধাক্কা দিচ্ছে, ফলে পরের তাসটিও পড়ে যাচেছ, এভাবে একটি তাসের পতনের কারণ হচ্ছে তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, এভাবে যেতে থাকলে একটি তাসে গিয়ে আপনাকে থামতেই হবে যেটি প্রথম তাস ৷ এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, প্রথম তাসের পতনের কারণ কি? উত্তরে বলা যাবে না যে সেটিও একটি তাস, ফলে বুঝতে হবে যে প্রথম তাসের পতনের কারণ এমন কিছু যে নিজে তাস নয় ৷ হয়ত সে একজন মানুষ যে প্রথম তাসটিকে টোকা দিয়েছে ৷ এই মানুষটি যেহেতু তাস নয়, সেজন্য তাসের ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যসূচক প্রশ্ন করা যাবে, এই মানুষের ক্ষেত্রে তা করা যাবে না ৷ যেমন তাসের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা যায় যে “তাসটি কি হরতন না ইস্কাপন?”, কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি অবান্তর ৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও তাসের পতনের পেছনে আদি কারণ হিসেবে মানুষ থাকার বিষয়টি বাস্তব ৷ ঠিক তেমনি স্রষ্টা যেহেতু সৃষ্টি নন কিংবা ফল নন, সেহেতু “তাঁর স্রষ্টা কে?” বা “কারণ কি?” এই প্রশ্নগুলি তাঁর বেলায় প্রযোজ্য নয় – কিন্তু তাঁর থাকার বিষয়টি বাস্তব ৷ এখানে আপাতদৃষ্টিতে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, যদি স্রষ্টাকে অস্তিত্বে আনার প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেই, তবে খোদ মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেই একথা ধরে নেই না কেন ? এর কারণ এই যে, মহাবিশ্ব কোন “জ্ঞানসম্পন্ন সত্তা” নয় যে নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পরিচালনা করতে পারে। বরং মহাবিশ্বের সকল ব্যবস্থা ও সকল অংশ ইংগিত করছে যে, তা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। এজন্য কোন স্রষ্টা ব্যতীত মহাবিশ্বের স্বয়ংসর্ম্পূণ অস্তিত্বের ধারণা সর্ম্পূণ যুক্তি বিরোধী, তাই এক্ষেত্রে একমাত্র যৌক্তিক সম্ভাবনা হচ্ছে এই যে, এর একজন জ্ঞানী স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী থাকতে হবে যিনি নিজে সৃষ্ট নন।

বিজ্ঞানের থিওরী এবং টাইম মেশিনের সম্ভাবনা এবং অন্যান্য (নাস্তিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর)

আমি কয়েকজন জ্ঞানী ব্লগারের বেশ কয়েকটা জ্ঞানী পোস্ট পড়লাম। সংখ্যা আর বিজ্ঞানীদের কোটেশনের ছড়াছড়ি। উনারা যে অনেক জ্ঞানী, সেটা আমি বুঝলাম। কিন্তু, পোস্টে যে কী বুঝাতে চাইছেন, সেটা বুঝি নাই। যাই হোক, আমি এই পোস্টে কোন সংখ্যা আর বিজ্ঞানীদের কোটেশনের ছড়াছড়ি বসাব না। শুধু দিব সেই ব্যাখ্যাটুকু যেমন ভাবে আমি ব্যাপারটাকে বুঝি।



মনে করেন, আমি একটা রকেট(স্পেস শাটল) নিয়ে বের হইছি, পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে। এখন পুরা পৃথিবীটা চক্কর মারলাম। আমার যেই গতি, আমার এতে লাগল ধরেন ১০ ঘণ্টা। আচ্ছা, আমার গতি যদি আরো বাড়াই তাহলে ? স্বাভাবিক ভাবেই পুরা পৃথিবীটা ঘুরতে আরও কম সময় লাগবে।গতি যদি আরো বাড়াই, লাগবে ৫ ঘণ্টা। গতি আরও বাড়ালাম, লাগল ২ ঘণ্টা (এত গতি বাড়ানো আদৌ যে সম্ভব না, সেটা মুখ্য বিষয় না। বিষয় হল, গতিটা বাড়ালে ফলাফল কী হত, তাই।)। গতি আরো বাড়ালাম, লাগবে ১ ঘণ্টা। গতি আরো বাড়ালাম, লাগল ২০ মিনিট। আরো গতি বাড়ালাম, লাগল ৫ মিনিট। আরো গতিতে গেলে, লাগবে ১ মিনিট (ব্যাপারটা আস্বাভাবিক লাগলেও গতি বাড়ানোর ফলাফলটাই আমাদের আলোচ্য বিষয়।)। গতি যদি আরো বাড়াই ? লাগলো ১ সেকেন্ড। আরো গতি বাড়ালাম,অনেক বাড়ালাম। লাগল ০.০০০০১ সেকেন্ড।



এখন, ধরেন আরো বাড়াতেই থাকলাম, একটা সময় কি আসবেনা যখন গতি ০ এর পিছে চলে যাবে ? ব্যাপারটা হজম করা একটু কঠিন, কিন্তু সত্য এটাই। ০.০০০০১ এর চেয়েও কম, তার চেয়েও কম, এমন কি তার চেয়েও কম সময়ের পরে হয়ত, আমরা ০ এর কম সময়ে একবার ঘুরে আসব।


০ এর কম, মানে কী ? মানে, সময়ের আগে। মানে, যখন, আমরা রওনা দিলাম, তার আগে। আমি রওনা দেয়ার আগেই, আমি পৌঁছালাম। আমি অতীতে গেলাম।
[এই ব্যপারটা সাধারণ চিন্তায় যাদের কাছে বোধগম্য অথবা যুক্তিগ্রাহ্য হয়নি, তাদের জন্য পোস্টের শেষে আবার অন্যান্য দিক থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম।]

এটুকুতে এসে সে সময়ে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, টাইম মেশিন বানানো সম্ভব।


এখন, নিশ্চিয়ই প্রশ্ন আসতেছে, এত গতি বাড়ানো কি সম্ভব আদৌ ? না, তা সম্ভব না। আইন্সটাইন প্রমাণ করে গেছেন, আলোর গতির সমান বা তার চেয়ে বেশি আমরা গতি পাব না। তিনি প্রমাণ করেন, আলোর গতির সমান আমাদের বেগ হলে, আমাদের ভর হবে অসীম।


[গতি ব্যাপারটা একটু বিস্তারিত বোঝেন। আমরা, কতটুকু সময়ে কতটুকু দূরত্ব পার হই, সেটাই এখানে আলোচ্য বিষয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে দ্রুতি।মানে, আমি ১ সেকেন্ডে কতটুকু দূরত্ব গেলাম, সেটাই আমার দ্রুতি। ধরেন, আমি ১ সেকেন্ডে ১ মিটার গেলাম।তাহলে আমার দ্রুতি সেকেন্ডে ১ মিটার।]


সে সময়ের বিজ্ঞানের দৌড় এখানেই শেষ। আগের যুগের বিজ্ঞানীরা এ থেকেই সমাপ্তি টেনে দেন যে, টাইম মেশিন অসম্ভব।



কিন্তু, বিজ্ঞানের আরো একটু গভীরে যাই। আপনার মেঝেতে একটা বিন্দু ধরেন। মেঝের সাথে লাগানো। এই বিন্দুটাকে চিনহিত করার উপায় কী ? দেখেন, এই বিন্দুটা আপনার ঘরের ডান দিকের দেয়ালের থেকে ১ মিটার দূরে। ডান দিকের দেয়ালের চেয়ে এই দূরত্বে অনেক বিন্দুই আছে, মানে ওই বিন্দুর পুরা লাইনটাই ১ মিটার দূরত্বে, এই দেয়ালটা থেকে।


আবার, দেখেন, আপনার সামনে দেয়াল থেকেও ১ মিটার দূরে।এখন, ডান দিকের দেয়ালের থেকে ১ মিটার আর সামনের দেয়াল থেকে ১ মিটার দূরত্বে এই একটাই বিন্দু পাবেন আপনি।


অন্য দেয়ালগুলো হিসাব না করলেও হয়। ব্যাপারটা আরো মনযোগ দিয়ে ভাবুন, গ্রাফের বিন্দু বের করার মতন। যেই বিন্দুগুলা ২ টা দিক(মাত্রা) থেকে হিসাব নিয়ে চিনহিত করা যায়, সেগুলোকে দ্বিমাত্রিক বিন্দু বলে। যেই তলে বিন্দুগুলোর এই পরিমাপ সম্ভব, সেটা দ্বিমাত্রিক তল। যেমন, আপনার মেঝে, কাগজের উপরের পৃষ্ঠ, যেকোন কিছুর একপাশের তল।


এভাবে একমাত্রাও সম্ভব। যেমন, ধরেন ছুরির এক প্রান্ত। সবচেয়ে উপরের বিন্দু থেকে ৪ ইঞ্চি পরে, এভাবে এক দিক হিসাব করেই আপনি একটা নির্দিষ্ট বিন্দু পাচ্ছেন।


এভাবে, কিন্তু, ৩ মাত্রাও সম্ভব। যেমন, আপনার মাথাটাকে একটা বিন্দু ধরেন। ডান দিকের দেয়াল থেকে ১ মিটার দূরে, সামনের দেয়াল থেকে ১ মিটার পিছে, এভাবে মেঝেতে যেই বিন্দুটা পাব তার চেয়ে ১ মিটার উপরেই আপনার মাথা, মানে নির্দিষ্ট বিন্দুটা।


এতক্ষণে বুঝে গেছেন, আমরা যেই জগতের, তা ত্রিমাত্রিক। এখানে, আমরা ৩মাত্রায় বলে, ১ আর ২ মাত্রা দেখতে পাই। অথচ, ৪র্থ মাত্রা ধরতে পারিনা, কল্পনাও করতে পারি না।


৩ মাত্রায় থাকার ফলে, আমরা নিচের মাত্রা গুলা থেকে বেশি সুবিধা পাই। সেটা হল, ধরেন দ্বিমাত্রার একটা বিন্দু, মেঝেতেই যে থাকে। শূন্যে ভাসতে পারেনা সে (মানে, আমাদের মাথার পজিশিনে সে আসতে পারবেনা, কাগজের একটা ছবির মত তার অবস্থান।তাকে শুধু বস্তুর একটা পৃষ্ঠে থাকতে হবে।)। তাকে যদি আপনার আলমারির উপরের তলে উঠতে হয়, তার যাথাপথ কী হবে?

সেটা বের করতে হলে, আপনাকে আপনার আঙ্গুলটা মেঝেতে লাগাতে হবে।মনে করেন, এর নিচের স্পর্শ বিন্দুটাই সেই দ্বিমাত্রিক বিন্দু। আপনাকে প্রথমে আঙ্গুলটা আলমারি পর্যন্ত নিতে হবে, পরে আলমারির গা বেয়ে উপরে উঠতে হবে।(ব্যাপারটা না বুঝলে আবার ভাবেন। ছবিকে যেমন আপনি কাগজের তল থেকে শূন্য উঠাতে পারেন না, এখানেও তেমন। ছবিটাই দ্বিমাত্রায়।ছবিটা যদি নড়তেও পারত, তাহলেও উড়ে আলমারির উপরে যাবেনা। তাকে একটা তলে বেয়ে যেতে হবে।)


এবার, আঙ্গুলটাকে যদি মুক্ত করে নেন,মেঝে থেকে উপরে উঠান তাহলে আপনার আঙ্গুল আবার ত্রিমাত্রিক জগতে ফেরত আসল। এখন, আপনি আলমারির উপরে কিভাবে যাবেন ? সরাসরি। মানে, সোজা গিয়ে আলমারির উপরে হাত রাখবেন(ছবিটা উড়তে না পারলেও, ছবিটা যেই কাগজে আঁকা হয়েছে, তা তো আমরা উপরে উঠাতে পারি, তাই না? কারণ, কাগজটা ত্রিমাত্রিক জগতে, শুধু এর একটা পৃষ্ঠটা দ্বিমাত্রিক জগত।)।


মজাটা ধরতে পারছেন ? আলমারিরি উপরে সরাসরি হাত রাখতে আপনাকে ১ মিটার কোণাকুণি হাতটা বাড়ালেই হল।

সেখানে, দ্বিমাত্রিক কোন বিন্দুকে আলমারি পর্যন্ত দূরত্ব যেতে হবে, এরপর পুরা আলমারির নিচে থেকে উপরে উঠতে হবে। মানে, একই জায়গায় যেতে আপনার থেকে সেই বিন্দুকে বেশি দূরত্ব পার করতে হবে।


আপনি হাত টা উপরে উঠান। দেখেন, মেঝেতে ছায়া পড়েছে। হাতটা ত্রিমাত্রিক জগতে, ছায়াটা দ্বিমাত্রিক জগতে। হাতটা পাশের দেয়ালে লাগান। ভাবুন, আপনার হাতের ছায়াটা একই জায়গায় কিভাবে আসল? ছায়াটা প্রথমে দেয়াল পর্যন্ত আসছে, পরে দেয়ালের পৃষ্ঠ বরাবর উঠতে হল। সেখানে, আপনি সরাসরি হাতটা রাখতে পারলেন। আপনার হাত যে সময়ে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করল, আপনার ছায়াটা কিন্তু একই সময়ে তার চেয়ে বেশি পথ বার করল। গন্তব্য বিন্দু একই, সময়ও একই। শুধু ছায়াটা পথ পাড় করল বেশি।


মানে, ত্রিমাত্রিক জগতে থাকার কারণে আমরা কম গতিতেও দ্বিমাত্রিক জগতের তুলনায় বেশি পথ অতিক্রম করলাম।

[এটুকু যদি না বুঝেন, তাহলে আবার পুরাটা পড়লে হয়ত পরিষ্কার হবে।]


এখন যদি, আমরা কোন ভাবে ৪র্থ মাত্রায় যাই, তাহলে কম গতিতেও ত্রিমাত্রিক জগতের তুলনায় বেশি পথ অতিক্রম করতে পারব।
এখানে,আলোর সমান গতিতে থাকলে হয়ত এক্স মিটার পার হব।কিন্তু,৪র্থ মাত্রায় থাকলে একই গতিতে আরো বেশি দূরত্ব পার হব। ৫ম মাত্রায় থাকলে সেই গতিতে আমাদের মাত্রায় আরো বেশি দূরত্ব পার হতাম। এভাবে ৬ তম,৭ তম মাত্রায় যেতে পারলে আমাদের ৩য় মাত্রায় আরো বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারতাম।



ব্যাপারটা হয়ত অনেকেই ধরতে পারছেন। আলোর সমান গতিতে না যেয়েও কিভাবে টাইম মেশিনের জন্য পর্যাপ্ত গতি পেতে পারি। ব্যপারটার জন্য আমাদের গতি বাড়াতে হবে না, বরং অন্য মাত্রায় যাওয়া লাগবে। সেটা যদি করতে পারি, তেমন প্রযুক্তি যদি আবিষ্কার হয়, তবেই টাইম মেশিন সম্ভব।

এখানে এসে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, টাইম মেশিন বানানো আসলে সম্ভব।


এখন পর্যন্ত এটুকুই বলা যায়। তবে,বিজ্ঞান আসলে খুবই মজার জিনিস। চলেন তো, আমরা বিজ্ঞানের আরো একটু গভীরে যাই!!!
ভাবেন, কাগজে আঁকা ছবিটাকে আপনি আমাদের জগতে বের করে আনলেন। সেটা কী সম্ভব ? কাগজে আঁকা ছবিটা কীভাবে কাগজ থেকে বের হবে ?


আমাদের উপরের মাত্রাতেও আমাদের যাওয়া সম্ভব না। তবে, উপরের মাত্রার যে কারো পক্ষে আমাদের জগতে অস্বাভাবিক গতি অর্জন করা অসম্ভব নয়।

আমাদেরকে সেই প্রযুক্তি তাদেরকেই দিতে হবে। আপাতত, নতুন কোন থিওরী খোঁজা ছাড়া আমাদের পক্ষে কিছু করার নাই। এমন থিওরী বের করতে হবে, যেটা দ্বারা আমাদের উপরের মাত্রায় যাওয়া সম্ভব, অথবা এমন প্রযুক্তি বের করতে হবে, যেটা দিয়ে কাগজের ছবিকে বাইরে বের করানো যাবে। যা আসলে অসম্ভব।
হা হা হা, আসলে ঘুরে ফিরে আবার আগের ধারণাতেই। টাইম মেশিন অসম্ভব।

[এখন পর্যন্ত ধারণা করা হয়, ৯টি[শুধুমাত্র স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী, যা এখন অনেকেই বর্জন করেছেন] অথবা ১০টি[বিগ ব্যাং থিওরীর একটা অংশ, এছাড়া আরো কিছু থিওরীর হাইপোথিসিস] মাত্রা সম্ভব। আমাদের ৩ টা সোজা, বাকি গুলা অত্যন্ত বাঁকানো।]
[বিভিন্ন মাত্রিক জগত তথা ভেরিয়াস ডাইমেনশন হাইপোথিসিসস সম্পর্কে ধারনাটা আসলে আইন্সটাইনের আপেক্ষিক সূত্রের একটা অনুসিদ্ধান্ত। যেটা স্টিফেন হকিং সবচেয়ে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞানী মহলে আলোড়ন তোলেন। ‘ব্রিফ হিস্টোরী অব টাইম’-এ এই ব্যাপারটা তুলে ধরা হয়। টাইম মেশিনের ব্যাপারে উনি সরাসরি কিছু না বললেও আমি ব্যাপারটাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করি।]

---------------------------------------------------------------------------------
[উপরের প্রত্যেকটা লাইন যারা পুরোপুরি বুঝছেন, নিচের এই অংশটা শুধু তাদের জন্যেই।]
[নিচের ব্যখ্যাগুলো কোন থিওরী না। কোন বইয়ের কথাও না। উপরের ব্যাখ্যা দিয়ে যা যা আরো বোঝা যায় (যেভাবে আমি বুঝি), সেগুলাই দিলাম।]


যদি দ্বিমাত্রিক প্রাণী থাকত, তাহলে তা কেমন হত? কাগজে আঁকা জীবন্ত ছবির মতন। সেটা কাগজ ছেড়ে উঠে আসতে পারবে না। শুধু কোন বস্তুর একটা তলেই বা এক পৃষ্ঠেই তার অবস্থান।
শূন্যে যেহেতু কোন বস্তু নাই, তাই সেখানে আমরা যেতে পারলেও কোন দ্বিমাত্রিক প্রাণী(যদি থাকে) যেতে পারবে না।
মানে, পৃথিবীতে দ্বিমাত্রিক জগতের কোন প্রাণী চাঁদের দ্বিমাত্রিক জগতে কখনই যেতে পারবেনা। যদি না আমরা সেই কাগজটাকে রকেটে(স্পেস শাটল) করে চাঁদে নিয়ে সেখানে না রাখি। মানে, নিজে থেকে কোনভাবেই দ্বিমাত্রিক জগতের প্রাণী কোন শূন্য স্থান পাড়ি দিতে পারবে না।

অর্থাৎ পুরা আলাদা আলাদা গ্রহে পুরা আলাদা আলাদা দ্বিমাত্রিক জগত। আথচ, সেই তুলনায় আমাদের ত্রিমাত্রিক জগত কত বড়, ব্যাপারটা ভাবতে পারেন ? আমাদের বিশ্বব্রম্মাণ্ড কত বড়, সেখানে দ্বিমাত্রিক জগতে প্রাণী থাকলে তা শুধু একটা গ্রহেই তাকে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। অন্য গ্রহে যেতে পারবেনা। সব খানে আলাদা আলাদা ২য় মাত্রার জগত।
সবচেয়ে বড় কথা, দ্বিমাত্রিক জগতের প্রাণী কখনই আপনার পূর্ণ রূপ দেখবে না। কাগজে হাত রাখলে সে শুধু আপনার হাতে নিচের পৃষ্ঠ দেখবে । আপনার মুখ দেখতে পাবে না। তার কাছে আপনার হাতের নিচের পৃষ্ঠটাই মনে হবে অনেক বড় কিছু । কিন্তু, ত্রিমাত্রিক জগতের একটা বহুতল বিল্ডিং এর কাছে আপনি কতটুকু ? অথচ, এই জগতে এসে দ্বিমাত্রিক প্রাণী এসব দেখে নাই বলে, তার কাছে আপনার শুধু হাতটাই অনেক বড়। একইভাবে আবার হয়ত ছোটও হতে পারে। কিন্তু, তার আসল রূপটা আপনি কোনদিনই বুঝবেন না।[কাগজে ১ মিটার স্কয়ার চতুর্ভুজের চেয়ে বাস্তবে ১ মিটার কিউব কত বড় হয় দেখছেন? কারণ,এখানে মাত্রা ৩ টা। একই ভাবে, ৪র্থ মাত্রাতেও 'একই স্কেলের' কোন বস্তু আমাদের মাত্রার তুলনায় অনেক অনেক গুণ বড় হবে।]

ত্রিমাত্রিক জগতের শূণ্য স্থান কোনদিন দ্বিমাত্রিক জগতের কেউ কল্পনাও করতে পারবেনা।

৪র্থ মাত্রায় একি স্কেলে বস্তু কি পরিমাণ বড় হবে বুঝতে পারছেন ? ৫ম, ৬ তম, ৭ তম, ১০ তম ???
সেই মাত্রার জগতে আমাদেরও যে অনেকগুলো আলাদা আলাদা জগত থাকবে বুঝতে পারছেন? সেখানেও এমন কয়েকটা তল থাকতে পারে, সেটা আমাদের ৩টা মাত্রা দিয়ে আমরা কল্পনাও করতে পারি না। ওই জগত থেকে কোন প্রাণী আসলে আমাদের মাত্রায় তার যেই অংশটুকু পড়ে, আমরা শুধু তার সেইটুকুই দেখতে পাব। তার সবটুকু দেখা আমাদের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব না। ১ মিটার স্কয়ারের চেয়ে ১ মিটার কিউবের যে পার্থক্য, ওখানে একই স্কেলের কেউ থাকলেও সে আসলে আমাদের থেকে ওই পরিমাণ বড়। হয়ত খুবই কম, আমাদের কাছে তাকে বেশি লাগতেছে, অথবা অনেক বড়, আমাদের কাছে অতি ক্ষুদ্র লাগবে।মোট কথা, ওই জগতে না যেয়ে আমরা তার আকার বুঝতে পারব না।উচ্চ মাত্রার জগতের কেউ আমাদের জগতে খুব সহজেই সময় পরিভ্রমণ করতে পারে।

---------------------------------------------------------------------------------

[উপরের অংশটা যারা বুঝেছেন, নিচের অংশটা শুধু তাদের জন্যই।]
[নিচের ব্যখ্যাগুলো কোন থিওরী না। কোন বইয়ের কথাও না। উপরের ব্যাখ্যা দিয়ে যা যা আরো বোঝা যায় (যাভাবে আমি বুঝি), সেগুলাই দিলাম।]

[এটুকু কারও কারও ভালো নাও লাগতে পারে, তাহলে শুধু উপরের টুকু নিয়েই ভাবুন।
[নিচের ভাবনা গুলো ব্যাক্তিগত।]

ছোট থাকতে খুব অবাক হতাম। দুনিয়াটা না গোল !! এটার বাইরে গেলে সব তো টিভিতে দেখি কালো দেখায়। তাহলে নীল আকাশটা গেল কোথায় ?? তখন বুঝি নাই যে আকাশ মানে মহাশূণ্য। সেটা তো এখন বুঝি। এই আকাশের কথা থাক।
এমন আরো অনেক কিছু আছে, যেটা বুঝেছি পরে।


কুরআনে দেখি বলা আছে, আসমানের কথা। সেটা কীভাবে থাকা সম্ভব ? বিশ্বব্রম্মাণ্ডের উপরে ছাদের মতন ?? এটা কি আদৌ সম্ভব ? ব্রম্মাণ্ডের আবার উপর নিচ কী ?
হুজুর বলল, সম্ভব। ছাদের মতন উপরে আছে। অনেক উপরে।


কুরআন নাযিল হবার আগে, প্রথম আসমানে যেখানে রাখা হয়, সেটা নাকি কাবা শরীফের একদম উপরে নাকি অবস্থিত। হঠাত একদিন খেয়াল হয়, আরে পৃথিবী না ঘুরতেছে !! তাহলে তো এখন কাবা শরীফ যেখানে, ১২ ঘণ্টা পর দুনিয়ার বিপরীত দিকে থাকবে(যেহেতু পৃথিবী ঘুরে গেছে।)। তাহলে, মাথার উপর ছাদের মতন আসমান থাকলে সেটাও কি এভাবে পৃথবীর সাথে সাথে ঘুরে? কারণ, ওই জায়গাটাতো কাবা এর একদম উপরে। অনেক উপরে তাহলে ছাদের মত থাকে কীভাবে ?
হুজুর বলল, তুই নাস্তিক। এখনই তওবা পড়। আমি কিছুই না পড়ে দৌড় দিয়ে চলে আসি।


বিশ্বাস অনেকটাই হালকা ছিল তখন। আমি আরও যখন অন্যান্য অনেক প্রশ্নের উত্তর পাই, তখন বুঝতাম এই ধর্মে ভালো জিনিস অনেক আছে। আর ক্ষতিকর কিছু নেই। কিন্তু, এই আসমান, পরকাল এই বিষয়গুলো মিলাতে পারতাম না। কেমন যেন লাগত।একটা জিনিসকে ভালো মনে করা, আত তাকে সত্য মনে করার একটা পার্থক্য আছে। বিশ্বাস ছিল। কিন্তু, মাঝে মাঝে হিসাব মিলতনা।
আমি ব্যাপারটা বুঝি আবার। অনেক বছর পরে। ক্লাস ৮ এর শেষের দিকে। ৯ এর শুরু, ব্রিফ হিস্টোরি অব টাইম এ যখন বিভিন্ন মাত্রিক জগতের ধারণাটা পাই। একে দিয়ে অনেক কিছুরই ব্যাখ্যা সম্ভব।
বিভিন্ন স্তরের আসমান আসলে বিভিন্ন ডাইমেনশান বা আমাদের উপরের মাত্রিক জগত। আমরা ত্রিমাত্রিক জগতের। আমাদের উপরের আসমান যদি প্রথম আসমান হয়, তাহলে সেটা হবে ৪র্থ মাত্রার জগত। সাত আসমান হবে ১০ মাত্রার জগত। ব্যাপারটা মজা না ?


দোযখ, বেহেশত কে যদি আপনি আলাদা আলাদা ত্রিমাত্রিক জগত ভাবেন, তাহলেই সেটার ব্যাখ্যা সহজ হয়ে যায়। আর, কেন কেউ আমাদের নিয়ে না গেলে আমরা সেখানে যেতে পারব না, সেটাও বোঝা সহজ হয়ে যায়।


সৃষ্টিকর্তা যদি একই সাথে সবখানে থাকতে চান, সবার সাথে এবং অতীতে আর ভবিষ্যতে তাহলে তিনি যদি ১০ম মাত্রায়(৭ আসমানে) থাকেন, তাহলেই সেটা সম্ভব হয়।

আবার ধরেন, ফেরেশতাগন যদি ৪র্থ বা ৫ম মাত্রায় থাকেন, তাহলে তারা যদি স্বরূপে আমাদের এখানে আসেন, তাহলে তাঁদেরকে কী পরিমাণ বিশালাকায় লাগবে,ব্যাপারটা ধরতে পারছেন?

নবীজী(স) এর ফেরেশতা দেখার বর্ণনা নিয়ে অনেক নাস্তিক অনেক প্রশ্ন করেন। আসলে যত দিন যাবে, আমরা আরো অনেক কিছু শিখব।
মনির ভাইকে নিয়ে লেখা আমার এক ব্লগে তিনি আমাকে প্রশ্ন করেন যে, কুরআনে নবীজীর ভুত(ফেরেশতাকে বুঝাইছেন) দেখার বর্ণনা আছে। সেটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য!!
আসলে আমাদের অনেক কিছুরই জানার বাকি। ফেরেশতারা ৪র্থ বা ৫ম মাত্রায় থাকলে উনাদের দেখার বর্ণনা মিলে যায়।

মেরাজ কীভাবে সম্ভব তাও মিলে যায়। ।
সর্বোপরি, আল্লাহ একই সাথে কীভাবে সবখানে থাকতে পারেন এবং সব ধরনের সময়ে, তার একটা যুক্তি চলে আসে।

আরো খুঁটিনাটি অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা যায়। মনে আসতেছে না। পরে মনে আসলে এডিট করে দিব।



[আচ্ছা, অতীতে আসলে ফেরত যাওয়ার উপায় কী ? আরো ভাবতে হবে, হঠাত মনে হল।]
--------------------------------------------------------------------------------
এখন, ১ম অংশের ব্যাখ্যায় আসি। আমার গতি যত বাড়তেছে, আমার সময় ততই কমতেছে। এখন, ২ টি ধনাত্মক সঙ্খ্যার ভাগফল কখনো ০ হয় না।এটুকু আমরা জানি।

আরো কিছু বিষয় জানতে হবে। সেটা হল, স্বাভাবিক চিন্তায় আমাদের মনে যা চিন্তা আসে, সেটা হল একটা সঙ্খ্যাকে যতই ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করি, সেটাকে কি কখনো ঋণাত্মক করা সম্ভব ? না, ভাগ করলে তা সম্ভব না।

কিন্তু, এখানে ব্যাপারটা এত সহজ না। যেহেতু, সঙ্খ্যাটাকে আমরা একবার ভাগ করছিনা, বরং চলকের (এখানে সময়) সাপেক্ষে প্রতিনিয়ত উক্ত সঙ্খ্যাকে ভাগ করতেই থাকব,তাই এখানে আমাদের সাধারণ ভাগ করলে হবে না। অন্তরীকরণ করতে হবে।


আমার কাছে অনেক কমেন্টের মাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী যে কমেন্টটা মনে হয়েছে, আমি এখানে তার ব্যাখ্যা দিব।

দূরের পাখি বলেছেন,"অন্তরীকরণ মানে হৈল স্বাধীন চলকের ক্ষুদ্র পরিবর্তনের স্বাপেক্ষে অধীন চলকের কি পরিবর্তন হয় সেইটা বের করা ।

এখন সময়ের স্বাপেক্ষে অন্তরীকরণ করলে নেগেটিভ ভ্যালু আসার মানে হৈল, অধীন চলকের মান সময়ের সাথে কমতাছে । এর বেশি কিছু না ।

y =10-2x
dy/dx = -2

এর মানে হৈল এক্স এর মান বাড়াইলে ওয়াই এর মান কমে । এবং এক্স এর মান একটা সীমার বেশি হৈলে ওয়াই এর মান ঋণাত্নক হয় ।

কিন্তু তুমি যেই ফাংশনের কথা বলতাছ সেইটা হৈল

y = c/ v (c>0, v>0)

dy/dx = c/x*x

এইখানে ও প্রথম ডেরিভেটিভ এর মান ঋণাত্নক, এইটাও নির্দেশ করে এক্স এর মান বাড়াইলে ওয়াই এর মান কমে । কিন্তু এইখানে এক্স এর মান যতই বাড়াও ওয়াই এর মান কখনোই শূণ বা ঋণাত্নক হবে না । সমীকরণ থাইকা কারণটা বোঝ কিনা দেখ । পরিবর্তনের হারটাই আবার এক্সের ফাংশন এবং ব্যস্তানুপাতিক । মানে কি

মানে হৈল এক্স এর মান বাড়াইলে ওয়াই এর মান কমে, কিন্তু এক্স এর মান বাড়াইলে পরিবর্তনের হারও কমে। অর্থাৎ বেগ দ্বিগুন করলে সময় যদি ১০০ সেকেন্ডে কমে তিনগুন করলে কিন্তু ২০০ সেকেন্ড কমবে না । ২০০ সেকেন্ড কমাইতে হৈলে তোমার বেগ করতে হৈব চার গুন । এইভাবে করতে থাকলে তুমি বেগ যতই বাড়াও , শেষের দিকে পরিবর্তনের হার এমন কৈমা যাইবো যে, বেগ বাড়াইয়া সময় আর কমানো যাইবো না ।

গ্রাফে আঁইকা দেখ, এই গ্রাফ কখনোই এক্স অক্ষরে ছেদ করবো না ।"

উনার বক্তব্য কতটুকু সঠিক তা বোঝার জন্য আমাদের ২ টা ব্যাপার জানতে হবে। ১ম টা হল, করেস্পন্ডেনস প্রিন্সিপল। এর মানে হল, 'গতি কম হলে আপেক্ষিক তত্ত্বের সমীকরণ পদার্থবিজ্ঞানের সনাতন সমীকরণে পরিণত হয়।' এখানে, প্রথম থেকেই অস্বাভাবিক গতির কথা 'বিবেচনা' করে আসছি বা 'ধরে নিচ্ছি'। সেখানে, তাই এই করেস্পডেনস প্রিন্সিপল খাঁটবে না। অর্থাৎ, এখানে এসে আমাদের সমস্ত যুক্তি ভেঙ্গে পড়ে।সময় পিছিনে আসবে কী আসবে না, তা আর আমরা সাধারণ যুক্তি দিয়ে বিচার করতে পারব না। এমন কি সময় আর আমাদের কাছে ধ্রুবও নয়। সময়ও আমাদের কাছে এখন আপেক্ষিক। একে তাই সময় হিসেবে বিবাচনাও আমরা করতে পারব না। এখন এর পরিচয় শুধুই একটা 'সংখ্যা' ।
[কেউ যদি ব্যাপারটা নাও বোঝেন, চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারেন। কারণ, এ ব্যাপারে কারও মত পার্থক্য থাকলে তাকে আমার বিপক্ষে না, বরং আইন্সটাইনের বিপক্ষে লড়তে হবে। উনার আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব এখন ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছি না।তবে দাবী উঠলে এটা নিয়ে পরে আরেকটা পোস্ট দেয়া যেতে পারে।]

এখন আসি ২য় ব্যাপারটায়।সেটা হল, চাইলেই কী একটা সঙ্খ্যাকে আমরা গ্রাফে বসাতে পারি, যেই সঙ্খ্যাটা একটা ত্রিমাত্রিক মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে ? ত্রিমাত্রিক জগতে ব্যবহৃত সঙ্খ্যাকে মনের মত গ্রাফে বসানো যায় না। একে একটা জ্যামিতিক বা ত্রিকোণমিতিক ফর্মে আনতে হবে। তাই, উক্ত এই সংখ্যার সাথে, আমাদের সাইন৯০ অথবা কস০ দিয়ে গুণ করতে হবে।[কারণ,এই দুটার একটা বসালে আমাদের সঙ্খ্যার মানের কোন পরিবর্তন হবে না।]
এক্ষেত্রে আমরা যদি কস০ কে গ্রহণ করি, তবে ওই সংখ্যার সাথে এটা গুণ করার সাথে সাথেই এর মান অনিশ্চয়তায় পড়বে। এর মান আর ধ্রুব থাকবে না।কারণ, এখানে করেস্পন্ডেনস প্রিন্সিপল খাঁটবে না। এখন যদি, আমরা এর অন্তরীকরণ করি, তাহলে আমরা গ্রাফে ঋণাত্মক একটা সংখ্যা পাই। আমার সমীকরণ ছিল,y=cos0 x X যেটা দূরের পাখি ধরতে পারেন নি(এই সমীকরণটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নাই। কারণ, এর ক্ষেত্র ত্রিমাত্রিক এবং অতি উচ্চগতি সম্পন্ন। এর ত্রিমাত্রিক রূপ লেখা সম্ভব,কিন্তু সেটা দিয়ে সাধারণ মানুষের মাথা খারাপ করতে ইচ্ছা করছে না।)।এ থেকেই প্রমাণ, করা সম্ভব যে উঁচু গতির ক্ষেত্রে সময়ের ঋণাত্মকতা সম্ভব।[অন্তরীকরণের সময় আমরা কস০ এর মান ভাঙ্গাতে পারব না, কারণ এত উচ্চ গতিতে তার মান আমরা জানি না।এ ব্যাপারে এক মত না হলে, আইনস্টাইনের সাথে ঝগড়া করতে পারেন।যাই হোক,সমীকরণ্টা অন্তরীকরণ করতে যেয়ে পরে কস এর মান ধুমধাম বসিয়ে দিয়েন না।এখানে কস এর মান ধ্রুব নাই।সেটা তো আগেই বলছি।

এত কিছু ভাবতে যাদের কাছে কঠিন লাগছে, তারা এভাবে বুঝতে পারেন, অতি উচ্চগতির ক্ষেত্রে সাধারণ কোন যুক্তিই খাঁটেনা। আর সময় কখনই কোন বস্তু না। একটা বস্তুকে আমরা যতি ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করি না কেন তা ঋণাত্মক করা সম্ভব না। কিন্তু, সময়ের ব্যাপারটা কী তাই !! তাছাড়া, এখানে সাধারণ নিয়মও খাঁটে না। এখানে সময়কে বস্তুর মত ভাগ করার নিয়মে ভাবলে হবে না। এখানে, বলা হয়েছে সময়ের আগে যাওয়ার কথা। মানে, কোন কিছু একবার ঘুরে আসতে ১ সেকেন্ড সময় লাগে। তার আগে গেলে কত সময় লাগবে? তারও আগে যদি যাই ? তারও আগে? হয়ত পেলাম ০.০০০০০০০০০০০০০০১। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন সময়টা কত ক্ষুদ্র !! আমি যদি তার চেয়েও গতি বাড়াই,আরো বাড়াই, আরো বাড়াই, এমনকি তার চেয়েও বাড়াই তখনও কি সময়ের গতির চেয়ে আগে যেতে পারব না? এর মানেই তো সময়কে ঋণাত্মক ধরা, অর্থাৎ সময়ের পেছনে যাওয়া।[যারা মনে করেন, সময়ের কোন গতি নাই।তারা স্টিফেন হকিং এর সাথে মারপিট করতে পারেন।]
যাই হোক, এখন কেউ কেউ বলবেন, আদৌ কি সম্ভব এত গতিতে যাওয়া ? কথা হল, সেটার ব্যাখ্যাই তো পুরা পোস্টে দিলাম। এখনো না বুঝলে পুরাটা পড়েন।


কোরবানী : নিষ্ঠুরতা নাকি বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক সিস্টেম

কোরবানী একটি নিষ্ঠুরতা এমন অভিযোগ অনেকেই করে। এটা প্রানী হত্যা ছাড়া কিছু নয় এমনটাই তারা বলে বেড়ায়।

এর বিজ্ঞান ও ধর্ম ভিত্তিক মুল্যায়নটি তাই তুলে ধরলাম।

১) জীব হত্যা মহা পাপ। এই যুক্তি যে ভেজেটেরিয়ানদের এবং একই যুক্তিতে যারা কোরবানীর বিপক্ষে তাদের কাছে প্রশ্ন,

- পশু হত্যা না করলে মানুষ খাবে কি? (সম্ভ্যাব্য উত্তরঃউদ্ভিদ)
জবাবঃ জগদীশ অনেক আগেই প্রমান করে গেছেন,উদ্ভিদের প্রান আছে!!  তবে সেটাকি জীব হত্যা হবে না?

২) এর পরের কমন যে জবাব - ভেজেটেরিয়ানরা দেয়, সেটা হলোঃ প্রানী তার অনুভুতি প্রকাশ করতে পারে। পশু হত্যা/কোরবানীর সময় তাদের চোখে আর্তনাদ দেখা যায়, যা নির্মমতা!! উদ্ভিদ তা করতে পারে না।

জবাবঃ উদ্ভিদ বিজ্ঞান এটাও প্রমান করেছে, প্রানীর ন্যায় উদ্ভিদেরো অনুভুতি প্রকট, কিন্তু তা সে প্রানীর মত বাহ্যিক ভাবে প্রকাশ করতে পারে না। এই যুক্তি যদি বাদ দেন তবে খেয়াল করুন,

ধরুন আপনার ২টি সন্তান, একটি সুস্থ অপরটি প্রতিবন্ধী- (মুক,বধির,অন্ধ)...
কার প্রতি আপনার মমতা বেশি হবে? কাকে আপনি সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করবেন?
খুব স্বাভাবিক ভাবেই যে প্রতিবন্ধী- কারন সে তার অনুভুতি প্রকাশ করতে পারে না।

তবে যারা এত জীব হত্যা জীব হত্যা করে তাদের তো হয় উদ্ভিদ ছেড়ে পশু খাওয়া উচিত,অথবা না খেয়ে মরে যাওয়া উচিত!


৩) এবার দেখুন ধর্ম কি বলে, ইসলামে পশু জবেহ ও কোরাবানীর কিছু নিয়ম আছে (যদিও তার অনেক গুলি পালন করা হয় না)

a)সুস্থ পশু হতে হবে।
b)একটির সামনে আরেকটিকে জবেহ করা যাবে না। (*বাংলাদেশের ভারতদাস সরকার (এবছর-২০১৫) পশু কুরবানীর জায়গা নিদ্দৃষ্ট করে দিতে চায়, সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে, যার প্রধান উদ্দেশ্য কুরবানীকে ঝামেলাপূর্ণ করে নিরুৎসাহিত করা।)

c)ধারাল অস্ত্র দিয়ে জবেহ করতে হবে।
d)সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হলো, সেটাকে বলি দেয়া যাবে না!!!

a,b,c এর পয়েন্ট গুলি দিয়ে সহজেই বুঝা যায় কেন তা করা হয়েছে।

d অনুসারে বলি না দিয়ে ইসলামিক ভাবে কেন জবেহ করাটা ভালো সেটা দেখুন,

যেকোন প্রানীর স্পাইনাল কর্ড কেটে ফেললে তার হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় সাথে সাথে, ফলে বলি করা হলে পশুর দেহ থেকে রক্ত সম্পুর্ন বের হতে পারে না।  রক্ত হচ্ছে ইন্টারনাল জীবানু পরিবহনের সবচেয়ে ভালো মিডিয়া। কিন্তু জবেহ করলে সেই ব্যাপারটি হয় না। এখানে হৃদক্রিয়া চালু থাকে দেহের সকল রক্ত বের হওয়া পর্যন্ত। অবশিষ্ট যা থাকে তা ধৌত করার মাধ্যমে পরিস্কার হয়।

৪)আরেকটি বিষয় যুক্ত করা দরকার

প্রানীর দেহে ৮টি অ্যামাইনো এসিড আছে এক সাথে, যা উদ্ভিদে নাই। আর এর সব কটাই মানুষের বৃদ্ধির জন্য দরকারি।

আর আমাদের দাঁতের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের ছেদন দাঁত ও পেষন দাঁত ২টাই আছে। যদি আমাদের শুধু উদ্ভিদ খাওয়ার জন্য তৈরি করা হতো তাহলে কেন ছেদন দাঁত হলো ? (মুরতাদদের কথা মত যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম, প্রকৃতিই এটা করেছে - স্রষ্টা নয়!!)

ছাগলের, গরুর কি আছে?

আবার বাঘ ,নেকড়ের দিকে তাকান...তাদের কেবন ছেদন দাঁত আছে!!! পেষন দাঁত  নেই কেন?


উত্তর গুলি খুব সহজ


প্রকৃত পক্ষে বেঁচে থাকতে খাবার লাগবে, আর তার জন্য কোন না কোন ভাবে জীব হত্যা আপনাকে করতেই হবে। আর ধর্মের দিক থেকে স্রষ্টা মানুষ কে সেরা জীব করে, আর বাকিদের তৈরী করেছেন আমাদের সেবায়....


*****************************
উপরে একটি পয়েন্ট কে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিলঃ

সংশোধনঃ


যে সকল প্রানী উদ্ভিদ ভোজি তাদের কোন ছেদন দাঁত নেই, কেবল পেষন আছে। কারন তাদের মাংস ছেঁড়ার দরকার পরে না। কিন্তু মানুষের ছেদন দাঁত আছে, যেমনটা আছে মাংসাশি অন্য প্রানী যেমন সিংহ , নেকড়ে ইত্যাদির।


(ভুলটি ছিলঃআগে উল্লেখ করা হয়েছিল, মাংসাশি প্রানির পেষন দাত নেই)


Dental Anatomy of Rabbits

Dental Anatomy of Dogs

Dental Anatomy of Humans



কুরআনের আলো ওয়েব থেকে সংযোজন


Western World এ পশু জবাইয়ের প্রচলিত নিয়ম(CPB Method): 
Captive bolt pistol(CPB ) নামের এক ধরনের যন্ত্র দ্বারা পশুর কপালে প্রচন্ড আঘাত করা হয়। ধারনা করা হয় এতে পশু unconscious হয়ে পড়ে এবং জবাইয়ের পর ব্যথা অনুভব করে না।

গবেষণা :

 জার্মানির Hanover University এর প্রফেসর Wilhelm Schulze এবং তার সহযোগী Dr. Hazim এর নেতৃত্বে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষনার বিষয়বস্তু ছিল :

১. Western World এ প্রচলিত নিয়মে(CPB Method) এবং
২.ইসলামিক নিয়মে পশু জবাইয়ে পশুর যন্ত্রণা এবং চেতনাকে চিহ্নিত করা।

Experimental Setup: 
Brain এর surface কে touch করে পশুর মাথার খুলির বিভিন্ন জায়গায় surgically কিছু electrode ঢুকিয়ে দেয়া হয়। পশুকে এরপর সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়। তারপর পশুগুলোকে জবাই করা হয়। কিছু পশুকে ইসলামিক নিয়মে আর কিছু পশুকে western world এর নিয়মে। জবাই করার সময় Electro Encephalo Graph (EEG) এবং Electro Cardiogram (ECG) করে পশুগুলোর brain এবং heart এর condition দেখা হয়।
Result: 

নাস্তিকের ক্ষমতায় এলে কি করতে পারে?

পৃথিবীর অনেকগুলো দেশকে দীর্ঘ সময় শাসন করেছিলেন এইসব শাসকেরা।
কি দিয়েছেন তারা পৃথিবীকে? লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা পড়েছে এদের হাতে, মানবাধিকার হয়েছে লংঘিত। এদেশগুলোর অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। দেশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বহির্বিশ্ব থেকে। ঠান্ডা স্নায়ু যুদ্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল পৃথিবী।
একটি কাজ তারা ভালমতেই সেরেছেন, তা হল দেশগুলো থেকে ধর্মকে বিতাড়িত করা।

মংগোলিয়া লামাবাদ বা লামাইজমকে একেবারেই মুছে দেয়া হয়েছিল। বুদ্ধের সেক্যুলার ধর্মও তাদের মনপুত: হয়নি। স্তালিনের সাগরেদ মংগোলিয়া একনায়কের হাতে মারা পড়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ।
খোদ স্তালিনের হাতে কত লক্ষ মানুষ পড়েছে বা সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত হয়েছিল, পৃথিবী প্রথম জানতে পারে সদ্য প্রয়াত লেখক আলেক্সান্ডার সোলজনৎস্কি লেখা থেকে।
চীনের বিরুদ্ধে এখনো মানবাধিকার লংঘন কিংবা বাকস্বাধীনতা হরনের অভিযোগ করা হয়।
বল্গে প্রায়শ:ই তালেবানদের নিয়ে ব্যংগ বিদ্রুপ করেন, বলেন মানবাধিকার লংঘনের কথা। কিন্তু এর আগে নাস্তিক শাসকেরা আফগানিস্তানের কি হাল করেছিলেন তা ভুলে যান। মোহাম্মদ দাউদকে হত্যা করে যখন সেখানে কমিউন্যিজম প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলে তখন প্রথম ধাক্কাতেই মেরে ফেলা হয় ১১ হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।
একলক্ষ রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক নেতৃত্ব কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে সবক্ষেত্রেই শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ধর্মকে মুছে ফেলার আয়োজন চলে। দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়, বোরখা পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, মসজিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। সর্বত্র সৃষ্টি করা হয় অরাজক পরিস্থিতির।
১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সালে আরো মারা হয় ২৭ হাজার মানুষকে, যার অধিকাংশ ছিলেন মোল্লা কিংবা গোত্র প্রধান। আমিরিকান রাষ্ট্রদুতকেও মারতে দ্বিধা করেনি এরা।

শুধুমাত্র তালেবানরাই কি বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল, নাস্তিকেরাও তাদের শাসনামলে কম্বোডিয়ায় বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল। প্রার্থনা করলে কিংবা ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করলে সাথে সাথে মেরে ফেলা হত। মুসলমানদেরকে বাধ্য করা হত শুয়োরের মাংস খেতে। এদের হাতে ৮০% খ্রিষ্টান মারা পড়ে। মারা পড়েন অনেক ইমাম, পাদ্রী।

উত্তর কোরিয়ার এখনো মুক্তি ঘটেনি অর্ধ উন্মাদ একনায়কের হাত থেকে।
জনগন যখন না খেয়ে মরছে, এ তখন জৌলুষময় জীবন যাপনে ব্যস্ত। এদেশটির রয়েছে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম মানবাধিকার লংঘনের ইতিহাস। এর বাবার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্যদেশে বোমাবাজির মত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ।

ছোটকালে শুনতাম ইউরোপের একমাত্র মুসলিম দেশ হল গিয়ে আলবেনিয়া। অথচ এটির ছিল পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র নাস্তিক দেশ।
পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশটির আয়ুস্কাল ছিল ১৯৬৭সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যন্ত। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয় আনোয়ার হোজ্জা, আলবেনিয়াকে পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশ (এথ্যায়িস্ট স্ট্যাট) সরকারি ভাবে হিসাবে ঘোষনা দেন।
সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখল করে নেয়া হয়া, ধর্মীয় নেতাদের বিদেশি শক্তিগুলোর সাথে সহযোগীতা বন্ধ করে দেয়া হয়। বিভিন্নভাবে তাদেরকে আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কাউকে পাঠানো হয় জেলে, কাউকে বাধ্য করা হয় কলকারখানায় কাজ করতে।
এসবকিছুর পরও ধর্মীয়গোস্টিকে দমনে ব্যর্থ হয়ে হোজ্জার পার্টি শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে নাস্তিকীয় শিক্ষা প্রচারে মনোনিবশন করে।
রমজানের মত পবিত্রদিনগুলোতে তারা হারাম খাদ্য পরিবেশন করা শুরু করে কারখানা এবং শিক্ষা প্রতিস্ঠান গুলোতে। খাবার গ্রহনে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে লান্ছ্বিত করা হত। ১৯৬৭সালের ফেব্রুয়ারীতে আরো আক্রমনাত্বক পন্হা নেয় হয় নাস্তিকীয় শিক্ষা প্রচার করার জন্য।
যদিও হোজ্জা বলেন যে তিনি যে কোন সন্ত্রাসী পন্হা অবলম্বনের বিরোধী, তিনি চান বুঝিয়ে শুনিয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে যে কোন একশন গ্রহনের শক্ত ভিত গঠন করা হোক।
এক্ষেত্রে তরুনদেরকে বেছে নেয়া হয়।
২,১৮৯টি মসজিদ এবং চার্চ বন্ধ করে দেয়া হয়। নাস্তিকবাদ অফিসিয়াল পলিসিতে পরিনত হয়। ধর্মীয় নামের শহর, নগরগুলোকে নতুন নাম দেয়া হয়, ব্যক্তির নামও বদলে ফেলা হয়। ১৯৮২ মানুষের নামের ডিকশনারি বের করা হয়। যার মধ্যে ৩,০০০ সেক্যুলার নাম ছিল। এরা ক্ষমতায় আসার সময় ৩০০ প্রিষ্ট ছিলেন, যাদের মধ্যে মাত্র ৩০জন প্রানে বাচতে পেরেছিলেন।
সমস্ত ধর্মীয় আচার অনুস্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৬৭সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যন্ত এই নাস্তিক দেশটিতে যারা জন্ম নিয়েছিল তারা ধর্মের ব্যপারে কিছুই জানত না। তাই তাই তারা ছিল হয় নাস্তিক নয়ত এ্যাগোনস্টিক।
আনোয়ার হোজ্জাকে চিত্রায়িত করা হয় এমন একজন জিনিয়সা হিসাবে যিনি কিনা সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সামরিক ইত্যাদি জীবনের প্রতিটি নৈতিক উপদেশ দান করে গেছেন। প্রত্যেকটা স্কুলের বইতে সে যে বিষয়ের উপরই হোক না কেন তার উক্তি উদ্ধৃত করা হত। . এক আলবেনিয়ান তাই আক্ষেপ করে বলেছিলেন ফিজিক্সের ক্লাসে মধ্যাকর্ষ শক্তির সুত্রটির জন্য কৃতিত্বটা পেতেন হোজ্জা যা ছিল কিনা নিউটনের পাওনা। আলবেনিয়া সিক্রেট পুলিশ এজেন্সি কে জি মত সবধরনের দমনমুলক পন্হা অবলম্বন করত। আলবেনিয়ার প্রতি তিনজন নাগরিকের একজনকে হয়ত লেবার ক্যাম্পে কাটাতে হত কিংবা সম্মুখীন হতে হত আলবেনিয়া সিক্রেট পুলিশ অফিসারদের জেরার। ভিন্ন মতালম্বীদের দমনের জন্য সিস্টেমেটিক সব পন্হা অবলম্বন করা হত। চাকুরিচ্যুত করা, লেবার ক্যাম্পে আটকে এবং প্রায়শ:ই মৃত্যদন্ড দেয়া। সরকারী কর্মকর্তাদের সরকারি সফর ছাড়া কাউকে বিদেশ যেতে দেওয়া হত না। পশ্চিমা নাচ নিষিদ্ধ ছিল, আর্টকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল সোসালিস্ট রিয়ালিজমের মধ্যে।

১৯৮১সালে হোজ্জা অনেক পার্টির নেতা এবং সরকারী কর্মকর্তাকে শুলে চড়ান। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শেহু এইসময় আত্মহত্যা করেন অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারনে। এটি ব্যপকভাবে বিস্বাস করা হয় যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৮৫সালে হোজ্জা যখন মারা যান আলবেনিয়া তখন সারা বিশ্বের কাছে একটি নিষিদ্ধ দেশ, যারা বহির্বিশ্বের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন। তার শাসনামলের প্রায় সবটুকু জুড়েই আলবেনিয়া ছিল ইউরোপের সবচাইতে গরীব দেশ।

১৯৯০ সালে হোজ্জার প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৯২ সালে পরাজিত হয় সোসালিস্ট পার্টি।

আজ আলবেনিয়া হোজ্জা লিগ্যাসীর সামান্য কিছুই অবশিস্ট আছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা জনগনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আরও মজার ব্যপার আলবেনিয়া এখন ওআইসির সদস্য।
শেষ করছি একটি জোক দিয়ে।

এক বিদেশী গেছে মস্কোতে বেড়াতে।
সবজায়গায় কড়াকড়িতে বেচারা ত্যক্ত বিরক্ত। সবকিছুতে নজরদাড়ি।
হোটেলে ফিরে মন হালকা করার জন্য বেচারা টিভি খুলে বসল।
টিভি খুলতেই লেলিনের বক্তৃতা। অন্য চ্যানেল টিপলে, ওখানে স্তালিনের স্তুতি।
একের পর এক চ্যানেলে একই যন্ত্রনা। শেষ একটি চ্যানেল টিপলে পর্দায় কেজিবির মুর্তি ভেসে উঠল, হাতে পিস্তল তাক করা। ভাংগা ইংরেজীতে বিদেশীর দিকে তাকিয়ে বলল, আরেকবার চ্যানেল বদলিয়েছ ত গুলি মেরে মাথার খুলি উড়িয়ে ফেলব।


পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশটি কেমন ছিল?

ছোটকালে শুনতাম ইউরোপের একমাত্র মুসলিম দেশ হল গিয়ে আলবেনিয়া। অথচ এটির ছিল পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র নাস্তিক দেশ।
পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশটির আয়ুস্কাল ছিল ১৯৬৭সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যন্ত। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয় আনোয়ার হোজ্জা, আলবেনিয়াকে পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশ (এথ্যায়িস্ট স্ট্যাট) সরকারি ভাবে হিসাবে ঘোষনা দেন।
সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখল করে নেয়া হয়া, ধর্মীয় নেতাদের বিদেশি শক্তিগুলোর সাথে সহযোগীতা বন্ধ করে দেয়া হয়। বিভিন্নভাবে তাদেরকে আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কাউকে পাঠানো হয় জেলে, কাউকে বাধ্য করা হয় কলকারখানায় কাজ করতে।
এসবকিছুর পরও ধর্মীয়গোস্টিকে দমনে ব্যর্থ হয়ে হোজ্জার পার্টি শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে নাস্তিকীয় শিক্ষা প্রচারে মনোনিবশন করে।
রমজানের মত পবিত্রদিনগুলোতে তারা হারাম খাদ্য পরিবেশন করা শুরু করে কারখানা এবং শিক্ষা প্রতিস্ঠান গুলোতে। খাবার গ্রহনে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে লান্ছ্বিত করা হত। ১৯৬৭সালের ফেব্রুয়ারীতে আরো আক্রমনাত্বক পন্হা নেয় হয় নাস্তিকীয় শিক্ষা প্রচার করার জন্য।
যদিও হোজ্জা বলেন যে তিনি যে কোন সন্ত্রাসী পন্হা অবলম্বনের বিরোধী, তিনি চান বুঝিয়ে শুনিয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে যে কোন একশন গ্রহনের শক্ত ভিত গঠন করা হোক।
এক্ষেত্রে তরুনদেরকে বেছে নেয়া হয়।
২,১৮৯টি মসজিদ এবং চার্চ বন্ধ করে দেয়া হয়। নাস্তিকবাদ অফিসিয়াল পলিসিতে পরিনত হয়। ধর্মীয় নামের শহর, নগরগুলোকে নতুন নাম দেয়া হয়, ব্যক্তির নামও বদলে ফেলা হয়। ১৯৮২ মানুষের নামের ডিকশনারি বের করা হয়। যার মধ্যে ৩,০০০ সেক্যুলার নাম ছিল। এরা ক্ষমতায় আসার সময় ৩০০ প্রিষ্ট ছিলেন, যাদের মধ্যে মাত্র ৩০জন প্রানে বাচতে পেরেছিলেন।
সমস্ত ধর্মীয় আচার অনুস্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৬৭সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যন্ত এই নাস্তিক দেশটিতে যারা জন্ম নিয়েছিল তারা ধর্মের ব্যপারে কিছুই জানত না। তাই তাই তারা ছিল হয় নাস্তিক নয়ত এ্যাগোনস্টিক।
আনোয়ার হোজ্জাকে চিত্রায়িত করা হয় এমন একজন জিনিয়সা হিসাবে যিনি কিনা সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সামরিক ইত্যাদি জীবনের প্রতিটি নৈতিক উপদেশ দান করে গেছেন। প্রত্যেকটা স্কুলের বইতে সে যে বিষয়ের উপরই হোক না কেন তার উক্তি উদ্ধৃত করা হত। . এক আলবেনিয়ান তাই আক্ষেপ করে বলেছিলেন ফিজিক্সের ক্লাসে মধ্যাকর্ষ শক্তির সুত্রটির জন্য কৃতিত্বটা পেতেন হোজ্জা যা ছিল কিনা নিউটনের পাওনা। আলবেনিয়া সিক্রেট পুলিশ এজেন্সি কে জি মত সবধরনের দমনমুলক পন্হা অবলম্বন করত। আলবেনিয়ার প্রতি তিনজন নাগরিকের একজনকে হয়ত লেবার ক্যাম্পে কাটাতে হত কিংবা সম্মুখীন হতে হত আলবেনিয়া সিক্রেট পুলিশ অফিসারদের জেরার। ভিন্ন মতালম্বীদের দমনের জন্য সিস্টেমেটিক সব পন্হা অবলম্বন করা হত। চাকুরিচ্যুত করা, লেবার ক্যাম্পে আটকে এবং প্রায়শ:ই মৃত্যদন্ড দেয়া। সরকারী কর্মকর্তাদের সরকারি সফর ছাড়া কাউকে বিদেশ যেতে দেওয়া হত না। পশ্চিমা নাচ নিষিদ্ধ ছিল, আর্টকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল সোসালিস্ট রিয়ালিজমের মধ্যে।

১৯৮১সালে হোজ্জা অনেক পার্টির নেতা এবং সরকারী কর্মকর্তাকে শুলে চড়ান। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শেহু এইসময় আত্মহত্যা করেন অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারনে। এটি ব্যপকভাবে বিস্বাস করা হয় যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৮৫সালে হোজ্জা যখন মারা যান আলবেনিয়া তখন সারা বিশ্বের কাছে একটি নিষিদ্ধ দেশ, যারা বহির্বিশ্বের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন। তার শাসনামলের প্রায় সবটুকু জুড়েই আলবেনিয়া ছিল ইউরোপের সবচাইতে গরীব দেশ।

১৯৯০ সালে হোজ্জার প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৯২ সালে পরাজিত হয় সোসালিস্ট পার্টি।

আজ আলবেনিয়া হোজ্জা লিগ্যাসীর সামান্য কিছুই অবশিস্ট আছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা জনগনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আরও মজার ব্যপার আলবেনিয়া এখন ওআইসির সদস্য।

মুহাম্মদ ( স: ) সম্পর্কে জর্জ বার্নাড শ, টমাস কার্লাইল, মহাত্মা গান্ধী এবং আরও কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

মুহাম্মদ ( স: ) সম্পর্কে এখানে উল্লেখিত বিভিন্ন মনিষীর উদ্ধৃতিগুলো একটি ওয়েবসাইটে পেয়েছি। সেখান থেকে আপনাদের জন্য বাংলায় অনুবাদ করে দিলাম। অনুবাদে ভূল হওয়া স্বাভাবিক এবং তার জন্যে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। উদ্ধৃতিগুলো কোন্ বই থেকে নেয়া হয়েছে তা উল্লেখ করা আছে।

Sir George Bernard Shaw in 'The Genuine Islam,' Vol. 1, No. 8, 1936.
মুহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি কারণ এর চমৎকার প্রাণবন্ততা। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সাথে অঙ্গীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম। আমি তাঁর(মুহাম্মদ) সম্বন্ধে পড়াশোনা করেছি-- চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রিস্টবিরোধী হওয়া সত্বেও তাঁকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি তাঁর মতো ব্যক্তির নিকট যদি আধুনিক বিশ্বের একনায়কতন্ত্র অর্পণ করা হতো তবে এর সমস্যাগুলো তিনি এমনভাবে সফলতার সাথে সমাধান করতেন যা বহু প্রতিক্ষীত শান্তি ও সুখ আনয়ন করতো। আমি ভবিষ্যতবাণী করছি যে মুহাম্মদের ধর্মবিশ্বাস আগামীদিনের ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যা ইতিমধ্যে বর্তমান ইউরোপে গ্রহণযোগ্যতা পেতে আরম্ভ করেছে।

সবিস্তার সূচীপত্র
টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম